শুক্রবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপের জেরে সেনসেক্স ১২৫.৫৬ পয়েন্ট এবং নিফটি ৮৭.৬৫ পয়েন্ট কমে বন্ধ হয়েছে। স্মলক্যাপ ও মিডক্যাপ শেয়ারে তুলনামূলক বেশি পতন দেখা গিয়েছে। ধাতু, আবাসন, ব্যাঙ্কিং-সহ একাধিক ক্ষেত্রের শেয়ারেও দরপতন হয়েছে।
সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ভারতীয় শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। সকালে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু হলেও সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি বাজার। পরবর্তী সময়ে বিক্রির চাপ বাড়ায় সেনসেক্স ও নিফটি—দুই প্রধান সূচকই পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করে।
বিএসই সেনসেক্স ১২৫.৫৬ পয়েন্ট বা ০.১৭ শতাংশ কমে ৭৩,১২৩.৮৩ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি ৮৭.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ কমে ২২,৬০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
লেনদেনের সময় প্রধান সূচকগুলি আরও নিচে নেমে গেলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকটি বড় সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা ফিরে আসায় পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। পুরো সপ্তাহজুড়েই বাজারে চাপ বজায় ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বলতা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
শুক্রবার ছোট ও মাঝারি সংস্থার শেয়ারে তুলনামূলক বেশি বিক্রির চাপ দেখা যায়। নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক প্রায় ২.৯৪ শতাংশ কমেছে। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচকে প্রায় ২.২১ শতাংশ পতন হয়েছে।
দুই সূচকের পতনের হার সেনসেক্স ও নিফটির তুলনায় বেশি ছিল। ফলে বাজারের বিক্রির চাপ শুধু বড় সংস্থার শেয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
ছোট ও মাঝারি সংস্থার একাধিক শেয়ার আগে থেকেই উচ্চ দরে লেনদেন হচ্ছিল। বাজারের পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের একাংশ সেই শেয়ারগুলিতে মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য বিক্রি শুরু করেন।
ক্ষেত্রভিত্তিক সূচকগুলির মধ্যে ধাতু সংস্থার শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। নিফটি মেটাল সূচক ২.৭১ শতাংশ কমে ১১,৪৭৮.২০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। কনজিউমার ডিউরেবলস সূচক ২.৬৩ শতাংশ কমে ৩৩,৯২২ পয়েন্টে নেমেছে।
![]()
এ ছাড়া রিয়েলটি বা আবাসন ক্ষেত্রের সূচক ২.৩৮ শতাংশ, রাসায়নিক ক্ষেত্রের সূচক ২.৩২ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সূচক ২.২৬ শতাংশ কমেছে।
বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পাশাপাশি ওষুধ, সংবাদমাধ্যম, গাড়ি এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের সংস্থার শেয়ারেও বিক্রির চাপ ছিল। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক ১.১৬ শতাংশ কমে বন্ধ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সূচকে তুলনামূলক কম পতন দেখা যায়। এই সূচক ০.২৭ শতাংশ কমেছে।
নিফটি ৫০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যে শ্রীराम ফাইন্যান্সের শেয়ার অন্যতম বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। সংস্থাটির শেয়ারের দাম ৩.৯৮ শতাংশ কমেছে।
আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার ২.৮৬ শতাংশ এবং জেএসডব্লিউ স্টিলের শেয়ার ২.৮৩ শতাংশ কমেছে। জিও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ার ২.৭৪ শতাংশ পতনের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে।
আদানি পোর্টস এবং টাটা স্টিলের মতো বড় সংস্থার শেয়ারেও দরপতন হয়েছে। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকলসের শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
বাজারের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিক্রির চাপ থাকলেও কয়েকটি সংস্থার শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ইটার্নালের শেয়ারের দাম ৪.২৫ শতাংশ বেড়ে ৩১৭.৪০ টাকায় পৌঁছেছে।
অ্যাপোলো হসপিটালসের শেয়ার ১.৬৫ শতাংশ এবং ওএনজিসির শেয়ার ১.১১ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ান পেইন্টস, টিসিএস এবং আল্ট্রাটেক সিমেন্টের শেয়ারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া মারুতি সুজুকি, সিপলা, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইনফোসিসের শেয়ার সামান্য বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেন শেষ করেছে।
শুক্রবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কথা উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
ভারত নিজের চাহিদার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে।
এর পাশাপাশি, অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারে দুর্বলতার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে। ছোট সংস্থার একাধিক শেয়ার আগে থেকেই উচ্চ দরে লেনদেন হওয়ায় বাজারের দুর্বল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য শেয়ার বিক্রি করেন।












