উত্তর ত্রিপুরায় পুলিশ ও বিএসএফের অভিযানে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার

উত্তর ত্রিপুরার কদমতলায় বৈধ অনুমতি ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক মইন উদ্দিন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও বিএসএফ। সীমান্ত পারাপার, কথিত দালালের ভূমিকা ও ভারতে আসার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ত্রিপুরার উত্তর জেলায় বৈধ অনুমতি ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ধৃত ব্যক্তির নাম মইন উদ্দিন মিয়া ওরফে দালিম। তাঁর ভারতে প্রবেশের পথ, এ দেশে আসার কারণ এবং সীমান্ত পার হতে তাঁকে কারা সাহায্য করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ ও বিএসএফ। বাংলাদেশ থেকে আসা এক ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করছেন বলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে খবর আসে।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে কদমতলা থানার পুলিশ এবং বিএসএফের ৯৭তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা ইয়াকুবনগর সীমান্ত চৌকির কাছে পৌঁছন। এরপর পশ্চিম প্রত্যেক রায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ইছাইপার এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, এক নম্বর ওয়ার্ডে তৈয়ব আলি নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ছিলেন অভিযুক্ত। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য তাঁকে কদমতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ধৃত ব্যক্তির নাম মইন উদ্দিন মিয়া। তিনি দালিম মিয়া নামেও পরিচিত। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম খালিদ মিয়া।

কীভাবে তিনি ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁর কাছে যাত্রা সংক্রান্ত বৈধ নথি ছিল কি না এবং ভারতে থাকার উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সীমান্ত পার হওয়ার নির্দিষ্ট পথ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মইন উদ্দিন মিয়া দাবি করেছেন, বুধবার দুপুরে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। সীমান্ত পার হওয়ার জন্য এক দালালকে প্রায় ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই তথ্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। কথিত ওই দালালের পরিচয় এবং সীমান্ত পার হতে তাঁকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৩ বছর আগে কদমতলার বাসিন্দা তৈয়ব আলির মেয়ে রুকিয়া আখতার হ্যাপির সঙ্গে মইন উদ্দিন মিয়ার বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা কিছুদিন ধরে কদমতলায় তাঁদের মাতৃকুলের বাড়িতে থাকছিলেন।

মইন উদ্দিনের ভারতে আসা এবং এখানে থাকার বিষয়ে কারা অবগত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে কোনও আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য সামনে আসা মানেই তিনি কথিত অবৈধ প্রবেশে জড়িত, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তকারীদের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

কদমতলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গুরুপদ দেবনাথ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কদমতলা থানার মামলা নম্বর ৬২/২৬-এর অধীনে অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শুক্রবার অভিযুক্তকে ধর্মনগর আদালতে পেশ করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার তদন্তে সীমান্ত পারাপারে সাহায্যকারী ব্যক্তিদের ভূমিকার দিকেও নজর দিচ্ছে পুলিশ ও বিএসএফ। অভিযুক্তকে ভারতে প্রবেশে কোনও দালাল সাহায্য করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কোনও বড় চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি।

তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, মইন উদ্দিন মিয়া এর আগে কখনও ভারতে এসেছিলেন কি না এবং তাঁর কাছে ভ্রমণ সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথি ছিল কি না।

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানুষের যাতায়াতের উপর নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশ।

বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। সীমান্ত পার হওয়ার পথ, কথিত দালালের পরিচয় এবং ভারতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার পর তদন্তের পরবর্তী দিক স্পষ্ট হবে।

Leave a comment