ভারতে চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির বাজার অংশীদারিত্ব কমে ৬৮ শতাংশ Samsung ফের শীর্ষে

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ভারতে চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির সম্মিলিত বাজার অংশীদারিত্ব কমে প্রায় ৬৮ শতাংশ হয়েছে, অন্যদিকে Samsung ফের শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে।

ভারতের স্মার্টফোন বাজারে চিনা সংস্থাগুলির দখল দুর্বল হচ্ছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়কালে চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির সম্মিলিত বাজার অংশীদারিত্ব কমে প্রায় ৬৮ শতাংশ হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় স্মার্টফোন উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কম দামের স্মার্টফোনের বাজারে। অন্যদিকে, Lava এবং Ai+-এর মতো ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলি নিজেদের বাজারে জায়গা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

চিনা ব্র্যান্ডগুলির বাজার অংশীদারিত্ব আট বছরেরও বেশি সময়ের সর্বনিম্ন স্তরে

মার্কেট রিসার্চ সংস্থা Omdia-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে চিনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির সম্মিলিত বাজার অংশীদারিত্ব প্রায় ৬৮ শতাংশ ছিল। এটি আট বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর বলে জানানো হয়েছে।

এক বছর আগে একই ত্রৈমাসিকে ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ চিনা সংস্থাগুলির দখলে ছিল। ২০২০ সালের এপ্রিল-জুন সময়কালে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছিল।

চিনা সংস্থাগুলির স্মার্টফোন বিক্রির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে কম দামের ফোন থেকে এসেছে। কিন্তু খরচ বাড়ার ফলে আগের দামে এই ফোন বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা বজায় থাকলেও সংস্থাগুলি আগের মতো কম দামে বেশি ফিচারযুক্ত ফোন দিতে পারছে না।

মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে

স্মার্টফোনে ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ মেমোরি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, অ্যাপ চালানো এবং ফোনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য RAM ব্যবহৃত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মেমোরি চিপের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

উচ্চমূল্যের ফোন বিক্রি করা সংস্থাগুলি বাড়তি খরচের একটি অংশ গ্রাহকদের উপর চাপাতে পারে। কিন্তু কম দামের ফোনের ক্ষেত্রে তা করা সহজ নয়। সামান্য দাম বাড়লেও গ্রাহক অন্য মডেলের দিকে চলে যেতে পারেন।

এই কারণে বেশ কয়েকটি সংস্থা কম বাজেটের ফোনের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। কিছু মডেলে RAM, স্টোরেজ বা অন্যান্য ফিচারে পরিবর্তন এনে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

Vivo, Oppo এবং Xiaomi-এর শিপমেন্টে প্রভাব

জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বেশ কয়েকটি বড় চিনা সংস্থার স্মার্টফোন শিপমেন্ট কমেছে। Omdia-এর তথ্য অনুযায়ী, Vivo প্রায় ৬৪ লক্ষ ফোন বাজারে পাঠিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ কম।

Oppo-এর শিপমেন্ট ছিল প্রায় ৪৯ লক্ষ ফোন, যা ২৪ শতাংশ কমেছে। Xiaomi-এর প্রায় ৪৭ লক্ষ ফোন বাজারে পৌঁছেছে। এক বছরে সংস্থাটির শিপমেন্ট ২৮ শতাংশ কমেছে।

দামি যন্ত্রাংশ এবং গ্রাহকদের পরিবর্তিত পছন্দের মধ্যে সংস্থাগুলি এখন মিড-রেঞ্জ এবং প্রিমিয়াম দামের স্মার্টফোনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

Lava এবং Ai+-এর মতো ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলির সামনে সুযোগ

চিনা সংস্থাগুলির কম বাজেটের মডেলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলি সুযোগ পাচ্ছে। Lava এবং Ai+-এর মতো সংস্থাগুলি এমন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, যারা বেশি অর্থ খরচ না করে নতুন ফোন কিনতে চান।

Counterpoint Research-এর মতে, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়কালে ভারতীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলির বাজার অংশীদারিত্ব বেড়েছে। কিছু রিপোর্টে এই অংশীদারিত্ব প্রায় ৭ শতাংশ বলা হয়েছে, অন্য একটি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ১৫ শতাংশের উল্লেখ রয়েছে। ফলে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলির বাজার অংশীদারিত্ব নিয়ে গবেষণা রিপোর্টগুলিতে পার্থক্য রয়েছে।

এই ত্রৈমাসিকে Ai+-এর ফোন শিপমেন্ট গত বছরের তুলনায় ৩০৬ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি নতুন মডেল এবং বিক্রির পরিধি বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে।

তবে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য বাজার অংশীদারিত্ব ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ হবে। দাম ছাড়াও ফোনের গুণমান এবং বিক্রয়-পরবর্তী পরিষেবার দিকেও তাদের নজর দিতে হবে।

Samsung ফের ভারতের বৃহত্তম স্মার্টফোন ব্র্যান্ড

চিনা সংস্থাগুলির বাজার অংশীদারিত্ব কমার মধ্যে Samsung ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

Omdia-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে Samsung প্রায় ৬৭ লক্ষ স্মার্টফোনের শিপমেন্ট করেছে। ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের পর সংস্থাটি ফের শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে।

Vivo দ্বিতীয় এবং Oppo তৃতীয় স্থানে রয়েছে। Xiaomi চতুর্থ স্থানে রয়েছে, আর Apple শীর্ষ পাঁচ সংস্থার মধ্যে জায়গা করেছে।

Samsung এবং Apple-এর দামি ফোন, ব্যাংক অফার এবং পুরনো ফোন বদলে নতুন ফোন কেনার সুবিধা সংস্থাগুলিকে সহায়তা করেছে।

ভারতের মোট স্মার্টফোন শিপমেন্টেও পতন

বাজারের সমস্যা শুধু চিনা সংস্থাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারেও মন্থরতা দেখা যাচ্ছে।

Omdia-এর মতে, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়কালে ভারতে প্রায় ৩.৫৮ কোটি স্মার্টফোনের শিপমেন্ট হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬ শতাংশ কম। এই ত্রৈমাসিকের পরিসংখ্যান ২০১৬ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল।

অন্যদিকে, Counterpoint Research প্রায় ২০ শতাংশ পতনের হিসাব দিয়েছে। দুই রিপোর্টে পতনের অনুমানে পার্থক্য থাকলেও দামি ফোন এবং দুর্বল চাহিদাকে বাজারের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেসব গ্রাহকের পুরনো ফোন ঠিকঠাক কাজ করছে, তাদের নতুন ফোন কেনার জন্য রাজি করানো সংস্থাগুলির জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

মেমোরি ও যন্ত্রাংশের খরচে সস্তা স্মার্টফোনের দাম কমার সম্ভাবনা কম

কম দামের স্মার্টফোন কিনতে চান এমন গ্রাহকদের জন্য নিকট ভবিষ্যতে দামে বড় পতনের সম্ভাবনা কম। স্মার্টফোন তৈরিতে ব্যবহৃত মেমোরি চিপ এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম ইতিমধ্যেই বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় মোবাইল সংস্থাগুলি কম বাজেটের ফোন বিক্রি করে আরও বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বড় ব্র্যান্ডগুলি উন্নত ক্যামেরা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং নতুন ফিচারযুক্ত স্মার্টফোনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

Leave a comment