সার্বিয়ায় ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে চলা সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। রাজধানী বেলগ্রেডে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী সংগঠন ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’-এর সমাবেশে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ অংশ নেন। ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (SNS)-কে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছে সংগঠনটি।
সার্বিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার ভুচিচ এ বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলন দুর্নীতি দমন এবং সরকারি জবাবদিহিকে প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
নির্বাচনের তিন দিন আগে, বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর বেলগ্রেডে ছাত্র আন্দোলনের শেষ বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্লাভিয়া স্কোয়ার এবং তার আশপাশের রাস্তায় বিপুল সংখ্যক সমর্থক জড়ো হন। স্বাধীন সংগঠন আর্কাইভ অফ পাবলিক গ্যাদারিংসের অনুমান অনুযায়ী, সমাবেশে প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা ‘ছাত্ররা জিতবে’ এবং ‘জয়’ স্লোগান দেন। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকেই নিজেদের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালান।
ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, তাঁদের লক্ষ্য শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন নয়। দেশে দুর্নীতি দূর করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাও তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি অসন্তুষ্ট বহু মানুষও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ২০২৪ সালের নভেম্বরে। উত্তর সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনে কংক্রিটের ছাউনি ভেঙে পড়ায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর রেল নির্মাণকাজে কথিত দুর্নীতি এবং গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসে।
![]()
এর পর ছাত্ররা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতে শুরু করেন। সরকারবিরোধী এই প্রতিবাদ ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে অংশ নেন এবং আগাম নির্বাচনের দাবি তোলেন।
প্রায় দুই বছর ধরে চলা আন্দোলনের পর ছাত্ররা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই প্রেক্ষাপটে ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’ সংগঠনটি সামনে আসে। এই সংগঠনে শিক্ষকদের পাশাপাশি সামাজিক কর্মী এবং প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থাকা ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আলেকজান্ডার ভুচিচ গত এক দশক ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তাঁর দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (SNS) ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। ভুচিচ দু’বার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচনী প্রচারে ভুচিচ নতুন রাস্তা, হাসপাতাল এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে তিনি ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সমর্থনে দেশে অস্থিরতা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। ছাত্র সংগঠন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই।
নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থনের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ভুচিচ। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল RTS-কে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশা পুতিন আগেই প্রকাশ করেছেন।
সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পেতে চায়। তবে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত বসনিয়ান সার্ব সামরিক কমান্ডার রতকো ম্লাদিচের শেষকৃত্যে সরকারি সমর্থন দেওয়ার ঘটনায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
ভুচিচের সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে ভুচিচ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।









