দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ৫০ জনের জনতার হাতে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের কেন্দ্রে প্রায় ৫০ জনের একটি জনতা এক বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের পরিচয় ও জাতীয়তা অজানা। ঘটনাটি অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ও সাম্প্রতিক সহিংসতার মধ্যে ঘটেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের কেন্দ্রে অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রায় ৫০ জনের একটি জনতা এক বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহরের কেন্দ্রে একটি মিছিল চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে মিছিলটি কোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয়, জাতীয়তা এবং হত্যার উদ্দেশ্যও এখনও জানা যায়নি।

পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির কাছে প্রথমে দু’জন এগিয়ে যান। এরপর প্রায় ৫০ জনের একটি জনতা তাঁর ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ডারবানের কেন্দ্রে একটি মিছিল চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের আশপাশে হামলাটি হলেও মিছিলটি কোন দাবিতে বা কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল না। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও পুলিশ কোনও নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।

গত কয়েক মাস ধরে ডারবানে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে শহরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একটি মিছিলের পর টানা দু’দিন ধরে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেই সময় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ৫০ জনের জনতার হাতে বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ডারবানের মধ্যাঞ্চলে সেনা মোতায়েন করতে হয়েছিল। সহিংসতার সময় ১৪টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, একাধিক দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয় অথবা সেগুলিতে আগুন লাগানো হয়। এই ঘটনাগুলি স্থানীয় ব্যবসা এবং জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।

ডারবানে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের মধ্যে বুধবার ই-হেইলিং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়িচালকেরাও একই এলাকায় মিছিল করেন। ওই বিক্ষোভটি মার্চ অ্যান্ড মার্চ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। গত কয়েক মাস ধরে এই আন্দোলন দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করে আসছে।

তবে বৃহস্পতিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই আন্দোলন বা কোনও নির্দিষ্ট বিক্ষোভের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশও হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে সরকারি তদন্ত ও অতিরিক্ত তথ্য ছাড়া ঘটনাটিকে কোনও নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করার মতো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেও কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলেছিল। সেই ঘটনাগুলির পর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল।

ডারবানে সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং বিদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ড এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তিনি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ এখনও পর্যন্ত ঘটনা সম্পর্কে সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, হত্যার সম্ভাব্য কারণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

 

Leave a comment