২৬ অক্টোবর ভারতীয় শেয়ার বাজারে ফ্ল্যাট সূচনার সম্ভাবনা রয়েছে। GIFT Nifty-তে সামান্য ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দিনের লেনদেনের আগে নজরে রয়েছে। পাশাপাশি, একাধিক সংস্থার সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা।
গত সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ার বাজারে পতন দেখা গিয়েছিল। ওই সময়ে Nifty 50 প্রায় ২.৪ শতাংশ এবং Sensex ২.২ শতাংশ কমেছিল। শুক্রবার Nifty 50 বন্ধ হয়েছিল ২২,৬০০ পয়েন্টের স্তরে। ফলে নতুন সপ্তাহের প্রথম দিনে বাজারের গতিবিধির দিকে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ GIFT Nifty প্রায় ২২,৬০০ পয়েন্টের আশপাশে লেনদেন করছিল। এই পরিস্থিতিতে বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া লেনদেন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বলতা এবং অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম এখনও বাজারের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়।
সোমবার সকালে এশিয়ার বাজার থেকেও উল্লেখযোগ্য সমর্থন মেলেনি। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচকগুলিতে পতন দেখা গিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন শেয়ার বাজারও ক্ষতির মুখে বন্ধ হয়েছিল। এর পাশাপাশি, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক রয়েছে। সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দেখা গিয়েছে। মার্কিন WTI ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১.৬০ ডলার বা ১.৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৬৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫৬ ডলার বা ১.৩৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৫.১৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। সৌদি আরবে তেল পরিকাঠামো এবং অন্যান্য স্থানে হামলার জেরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার দাম কমলেও ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের কাছাকাছি থাকা ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, Nifty 50-এর ক্ষেত্রে ২২,৮৫০ পয়েন্টের কাছাকাছি প্রাথমিক রেজিস্ট্যান্স রয়েছে। এই স্তরের কাছে ২০ দিনের এক্সপোনেনশিয়াল মুভিং অ্যাভারেজ বা EMA অবস্থান করছে।
এর উপরে গত সপ্তাহের ২৩,১৭৫ পয়েন্টের সর্বোচ্চ স্তরটি পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাধা হতে পারে। অন্যদিকে, সূচকের নিচের দিকে ২২,৩৭২ পয়েন্টের কাছাকাছি সাপোর্টের দিকে নজর থাকবে। শুক্রবার এই স্তরেই সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল। এই সাপোর্ট ভেঙে গেলে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে। তবে এগুলি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণভিত্তিক স্তর, যা লেনদেন চলাকালীন পরিবর্তিত হতে পারে।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে একাধিক সংস্থার। তালিকায় রয়েছে Tata Consumer Products, ITC Hotels, Paytm-এর মূল সংস্থা One 97 Communications, Mankind Pharma, REC, Ather Energy এবং Nazara Technologies।
এ ছাড়াও Bank of Maharashtra, Indian Overseas Bank, Aavas Financiers, Aditya Birla Real Estate, Aegis Logistics, Eris Lifesciences, Sona BLW, Sunteck Realty, Tamilnad Mercantile Bank এবং WeWork India-র আর্থিক ফলাফলের দিকেও নজর থাকবে। সংস্থাগুলির আয়, মুনাফা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক অনুমান তাদের শেয়ারের গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
![]()
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা Infosys জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৭,৮২৩ কোটি টাকার মুনাফা নথিভুক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে সংস্থাটির মুনাফা ছিল ৭,৩৬৪ কোটি টাকা। এই সময়ে সংস্থার আয় বেড়ে ৪৯,২৪৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে চলতি অর্থবর্ষের জন্য রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে Infosys।
অন্যদিকে, Kotak Mahindra Bank-এর স্বতন্ত্র মুনাফা ২৯.৫ শতাংশ বেড়ে ৪,২১২ কোটি টাকা হয়েছে। ব্যাঙ্কটির নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম বা নিট সুদ আয় ১৫.৭ শতাংশ বেড়ে ৮,৪৫৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
Dr Reddy's Laboratories-এর ত্রৈমাসিক মুনাফা ৩৬ শতাংশ কমে ৯১৩.৪ কোটি টাকা হয়েছে। সংস্থাটির আয়ও ১.৫ শতাংশ কমে ৮,৬৭০.৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, IndusInd Bank স্বতন্ত্র ভিত্তিতে ১,১৭৬.১ কোটি টাকার মুনাফা নথিভুক্ত করেছে। গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কটির ৪৪৪.৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। ব্যাঙ্কটির নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম বেড়ে ৪,৫৬৯.৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
Bank of India-র মুনাফা ২৫.৪ শতাংশ বেড়ে ৩,২০২.৪ কোটি টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, SBI Funds Management-এর মুনাফা ৬ শতাংশ কমে ৭০১.২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে সংস্থাটির আয় বেড়েছে।
Tata Motors-এর কমার্শিয়াল ভেহিকল বা বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবসা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ১,২৫৭ কোটি টাকার মুনাফা নথিভুক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই ব্যবসায় ৮৬৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সংস্থাটির আয় ৩৬.৩ শতাংশ বেড়ে ২৫,৩৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা Lupin-এর গোয়া ইউনিটে ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে পরিদর্শন চালিয়েছে মার্কিন ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা USFDA। পরিদর্শনের পর একটি পর্যবেক্ষণ-সহ Form 483 জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, KEC International পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশনের কাছ থেকে ২,৮৭২ কোটি টাকার অর্ডার পেয়েছে। এই অর্ডারের মধ্যে ৭৬৫ kV ট্রান্সমিশন লাইনের নকশা তৈরি, সরবরাহ এবং ইনস্টলেশনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।









