নয়াদিল্লিতে ২৬ ও ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ ব্রিকস সংসদীয় ফোরাম। সংসদ ভবন চত্বরে সংবিধান সদনে আয়োজিত এই সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। চলতি বছরে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত।
সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি অংশীদার দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সংসদের স্পিকার এবং প্রবীণ সাংসদরা রয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার স্পিকাররাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ২২ অক্টোবর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সম্মেলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সাংসদরা একসঙ্গে বৈঠকে বসে নিজ নিজ দেশের সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও আলোচনা হবে।
এবারের সম্মেলনে সাধারণ মানুষের চাহিদার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সংসদ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের সুফল কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে চারটি প্রধান বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এবং উন্নয়নমূলক কাজ। পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই বিষয়টিও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিগুলির সভাপতিদের জন্য পৃথক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশের সাংসদরা নিজ নিজ দেশের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।
![]()
সম্মেলন শুরুর আগে ২৫ অক্টোবর, রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার চেয়ারম্যান ভ্যাচেস্লাভ ভোলোদিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি দিল্লিতে পৌঁছয়।
বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতকে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন ওম বিড়লা। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও বৈঠকে উঠে আসে। ভারতের এই দাবিকে সমর্থন করার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান ওম বিড়লা।
ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন ওম বিড়লা এবং রুশ প্রতিনিধিরা। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৭ সালে এই সম্পর্কের ৮০ বছর পূর্ণ হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন ওম বিড়লা। অন্যদিকে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলি দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান রুশ প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, এই বাধা দূর করা গেলে দুই দেশের সংস্থাগুলির মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সহজ হবে।
বৈঠকে তরুণ সাংসদ এবং মহিলা সাংসদদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। রাশিয়ার পাশাপাশি কিউবা, মিশর ও বেলারুশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক করেন ওম বিড়লা।
দু’দিনের এই সম্মেলনে মূল বৈঠকগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনাতেও অংশ নেবেন। বিদেশি অতিথিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁদের ভারতীয় সংসদ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের সম্মানে উপরাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একটি ভোজসভার আয়োজন করা হবে।
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সম্মেলনের শেষ দিন। ওই দিন দু’দিনের বৈঠকে হওয়া আলোচনা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে।







