উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় নামের ভুল নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে নির্বাচন কমিশন

উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নামের ভুল এন্ট্রি নিয়ে আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া সফটওয়্যারের ত্রুটির কথা জানিয়েছেন।

উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নামের ভুল এন্ট্রি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘রামহিত যাদব’ নাম পরিবর্তিত হয়ে ‘রাম নে যাদব কো মারা’ (রাম যাদবকে মেরেছে) হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। এর জবাবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, সফটওয়্যার জাতি দেখে ভুল করে না। তবে তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য নিয়েও আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বিতর্কের সূত্রপাত আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন করেন, কীভাবে ভোটার তালিকায় ‘রামহিত যাদব’ নামটি পরিবর্তিত হয়ে ‘রাম নে যাদব কো মারা’ হয়ে গেল।

সঞ্জয় সিং প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের ভুল যাদব পদবির ক্ষেত্রেই কেন দেখা গেল। সিং, পাঠক, আস্থানা, শর্মা, রায় বা বিস্তের মতো পদবির ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুল কেন ঘটেনি, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন করেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কম্পিউটার কি জাতিগত পক্ষপাতদুষ্ট, নাকি কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা অনুযায়ী কাজ করছে?

এই মন্তব্যের পর ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এবং তাতে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সঞ্জয় সিংয়ের অভিযোগের জবাবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া তাঁর সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ‘রাম নে শর্মা কো মারা’ (রাম শর্মাকে মেরেছে) ধরনের ভুল এন্ট্রিও রয়েছে।

এই বক্তব্যের সমর্থনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর রবি শর্মা নামে এক ভোটারের পर्चি প্রকাশ করে। সেখানে বাবার নামের জায়গায় ‘রাম নে শর্মা কো মারা’ লেখা ছিল।

রিনওয়া স্বীকার করেন, নির্বাচন দফতরের তরফে ভুল হয়েছে। তবে সেই ভুলকে জাতিগত বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয় বলে তিনি জানান। ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে তিনি বলেন, একই ধরনের ভুলে কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম থাকলে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগও উঠত।

উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় নামের ভুল নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে নির্বাচন কমিশন

নবদীপ রিনওয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকার ভুল এন্ট্রির নেপথ্যে ইংরেজিতে লেখা নাম হিন্দি লিপিতে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারের ভূমিকা রয়েছে।

তাঁর দাবি, ইংরেজিতে লেখা নাম হিন্দি লিপিতে রূপান্তর করার সময় কয়েকটি ক্ষেত্রে সফটওয়্যার নামের উচ্চারণ অনুযায়ী হিন্দিতে লেখার পরিবর্তে ইংরেজি শব্দের অর্থ গ্রহণ করেছে।

এই প্রক্রিয়ায় ‘Ram Hit Yadav’ নামটি একজন ব্যক্তির নাম হিসেবে না লিখে একটি বাক্যের আকারে রূপান্তর করা হয়। তালিকা যাচাইয়ের সময় এই ধরনের ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকলেও কয়েকটি ভুল চূড়ান্ত তালিকায় থেকে যায়।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানান কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনেতও। সংশ্লিষ্ট পোস্টটি শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কে পরিচালনা করছেন।

শ্রীনেত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।

বিতর্ক বাড়ার পর ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে সরকারি প্রতিক্রিয়ায় সংযত ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। আধিকারিকদের অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য এড়িয়ে শুধুমাত্র তথ্যের ভিত্তিতে জবাব দিতে বলা হয়।

সোমবার সঞ্জয় সিং ভোটার তালিকায় আরও কয়েকটি অস্বাভাবিক এন্ট্রির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, একটি ক্ষেত্রে ‘মোহাম্মদ ইকবাল ভিক্ষা চান’ ধরনের এন্ট্রি দেখা গিয়েছে।

নবদীপ রিনওয়াকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ইংরেজি নামের এইভাবে হিন্দি অনুবাদ করা হলে তাঁর নিজের নামও ‘নঈ গহরাই রেডুয়া’ হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া আপ সাংসদ পিলিভিতে ১৩ হাজার অভিন্ন EPIC নম্বর, বস্তিতে সাত হাজার সন্দেহভাজন ভোটার এবং সুলতানপুরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২৬টি কথিত জাল ফর্ম পূরণের অভিযোগও পুনরায় তোলেন। তবে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসা অস্বাভাবিক এন্ট্রিগুলির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ভুল না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ ছাড়া তাঁর দাবি, ইন্টারনেটে কয়েকটি জাল ভোটার পर्चি ছড়ানো হচ্ছে। জাল নথি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

 

Leave a comment