মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে পতন দেখা যায়। দুর্বল আন্তর্জাতিক বাজারের ইঙ্গিতের মধ্যে সেনসেক্স ও নিফটি উভয়ই নিম্নমুখী অবস্থানে খোলে। তবে প্রধান সূচকগুলিতে পতন সত্ত্বেও একাধিক সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা অব্যাহত ছিল। টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস এবং বাজাজ অটোর শেয়ারে বৃদ্ধি দেখা গেলেও ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (TCS) মতো তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল।
মঙ্গলবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স ২২৫.১৯ পয়েন্ট বা ০.৩১ শতাংশ কমে ৭৩,৩৮১.৫৬ পয়েন্টে খোলে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০ সূচক ৬১.৮০ পয়েন্ট বা ০.২৭ শতাংশ কমে ২২,৬৯১.৪০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে।
প্রাথমিক বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১,২৪৪টি শেয়ারের দাম বেড়েছিল, ১,০০০টি শেয়ারের দাম কমেছিল এবং ১৫৮টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ, প্রধান সূচকগুলিতে পতন থাকলেও বাজারের সমস্ত শেয়ারে একই ধরনের বিক্রির চাপ দেখা যায়নি।
বাজারের প্রাথমিক লেনদেনে টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টসের শেয়ারের দাম ৩.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশের পর সংস্থাটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যায়।
![]()
এ ছাড়া BSE লিমিটেডের শেয়ারের দাম ১.৮৯ শতাংশ, বাজাজ অটোর ১.৫৬ শতাংশ এবং শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ১.৪৭ শতাংশ বাড়ে। ম্যাক্স হেলথকেয়ারের শেয়ারও ১.৩৪ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এনটিপিসি, সান ফার্মা, ইটারনাল, পাওয়ার গ্রিড, হিন্ডালকো এবং আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ারেও কেনাকাটা দেখা যায়। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে লেনদেনের চিত্র ছিল মিশ্র। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের শেয়ারে সামান্য ওঠানামা হয়, অন্যদিকে কয়েকটি ব্যাঙ্কের শেয়ারে পতন নথিভুক্ত হয়।
মঙ্গলবারের প্রাথমিক লেনদেনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়। ইনফোসিসের শেয়ারের দাম ২.৫১ শতাংশ কমে যায়। টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (TCS) শেয়ার ১.২৯ শতাংশ নিচে নামে।
হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের শেয়ারের দাম ১.৪০ শতাংশ এবং এশিয়ান পেইন্টসের ১.১৬ শতাংশ কমে। JSW স্টিলের শেয়ারেও ০.৯৮ শতাংশ পতন হয়।
এ ছাড়া টাটা স্টিল, গ্রাসিম ইন্ডাস্ট্রিজ, HCL টেকনোলজিস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ICICI ব্যাঙ্কের শেয়ার নিম্নমুখী অবস্থানে লেনদেন করছিল। বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপ প্রধান সূচকগুলির গতিতেও প্রভাব ফেলে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রের সূচকে লেনদেনের পার্থক্য দেখা যায়। প্রাথমিক লেনদেনে নিফটি IT সূচক ১.৫৭ শতাংশ কমে যায়। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক ০.২৮ শতাংশ এবং নিফটি সার্ভিসেস সূচক ০.৫২ শতাংশ নিচে ছিল।
অন্যদিকে, ফার্মা ক্ষেত্রে কেনাকাটা দেখা যায়। নিফটি ফার্মা সূচক ০.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারেও কেনাকাটা অব্যাহত ছিল এবং নিফটি PSU ব্যাঙ্ক সূচক ০.৫১ শতাংশ বাড়ে।
রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেও সূচকের বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়। নিফটি রিয়েলটি সূচক ০.২৯ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ফলে বাজারের প্রধান সূচকগুলি নিম্নমুখী থাকলেও ফার্মা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রের সূচকগুলিতে বৃদ্ধি দেখা যায়।










