গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে গুলিচালনায় মৃত ৫, গ্রেফতার অভিযুক্ত

অসমের গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে লিজ চুক্তি নিয়ে বিবাদের জেরে গুলিচালনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। পুলিশ অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেফতার করে একটি .৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করেছে।

অসমের গুয়াহাটিতে হোটেলের লিজ চুক্তিকে কেন্দ্র করে চলা বিরোধের জেরে গুলিচালনার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। পুলিশ মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর কাছ থেকে একটি .৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করেছে।

অসমের রাজধানী গুয়াহাটির ব্যস্ত বোরা সার্ভিস এলাকায় অবস্থিত বিলাস ইন হোটেলে সোমবার, ২৬ অক্টোবর রাত প্রায় ৯টা নাগাদ গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত আরও এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হোটেলের লিজ চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিবাদের বিষয়টি উঠে এসেছে। অভিযোগ, হোটেলটি লিজে নেওয়া ঘনকান্ত গগৈ মালিকপক্ষের লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর কাছ থেকে একটি .৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদকে এই ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ হোটেলটি লিজে নিয়েছিলেন। গত কিছু সময় ধরে হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁর চুক্তি নিয়ে মতবিরোধ চলছিল।

সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ফের বিবাদ হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই সময়ই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে ওই রাতে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত অস্ত্র বের করেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোটেলের পরিচালনা এবং লিজ চুক্তি সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হলে বিবাদের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

গুলিচালনার ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলিতে মৃতদের নাম ও পারিবারিক সম্পর্কের বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ এবং নারায়ণ দাসের নাম উঠে এসেছে। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে পরিবারের বাকি সদস্যদের পরিচয় ভূদেব ভরালি এবং রিনিকি কাশ্যপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মৃতদের পরিচয় এবং তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলিতে কিছু অসংগতি থাকায় পুলিশের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, পঞ্চম মৃত ব্যক্তি এবং আহত ব্যক্তিও আক্রান্ত পরিবারের গ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

গুলিচালনার ঘটনায় আহত ব্যক্তির নাম সত্যেন পাঠক বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ বাবুল কুমার বেজবরুয়ার মতে, সত্যেন পাঠকের বয়স প্রায় ৪২ বছর। গুলি তাঁর শরীরের এক দিক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নারায়ণ দাসের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স প্রায় ৪৮ বছর বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আহতদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ ও চিকিৎসক দল।

গুলিচালনার খবর পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তলটি তদন্তের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কোন পরিস্থিতিতে ওই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ সংগ্রহ করা হবে। এই ঘটনায় অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট সরকারি তথ্য সামনে আসেনি।

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হোটেলের লিজ চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ। মালিকপক্ষ ও অভিযুক্তের মধ্যে বিবাদ কবে শুরু হয়েছিল এবং সোমবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এ ছাড়া ঘটনার সময় হোটেলে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে বিবাদ গুলিচালনার পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ হলে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আপাতত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত প্রমাণের পরীক্ষা এবং লিজ চুক্তি সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার চেষ্টা চলছে।

Leave a comment