কেরল কংগ্রেসের তরফে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি সানি জোসেফ জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্বের অনুমতি ছাড়াই ওই পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর কেরল কংগ্রেসের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে ওই পোস্টে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগ করার কথাও বলা হয়েছিল।
পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আইনি সংগঠন আপত্তি জানানোর পর পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। তবে পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে জবাবদিহি দাবি করা হয়।
আইনি নোটিসের জবাবে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি সানি জোসেফ জানান, বিতর্কিত পোস্টটি প্রকাশ করেছিলেন বিজয় থোট্টাথিল। তাঁর বক্তব্য, পোস্টটি প্রকাশের আগে দলের সভাপতি বা অন্য কোনও শীর্ষ নেতার অনুমতি নেওয়া হয়নি।
সানি জোসেফ স্পষ্ট করেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করা কিংবা তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য কংগ্রেস নেতৃত্ব কোনও নির্দেশ দেয়নি। দলের তরফে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও বলা হয়েছে।
কেরল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি স্বীকার করেছেন, অনুমতি ছাড়া কোনও পোস্ট প্রকাশ করা হলেও তার ভাষাকে সমর্থন করা যায় না। দল ওই মন্তব্যের ভাষাকে অনুপযুক্ত বলে উল্লেখ করেছে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি নিজেদের সম্মান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই ঘটনায় কেরল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতিকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তথা আইনজীবী মনীশ দুবে। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিতর্কিত পোস্টটি কে লিখেছিলেন, কার অনুমতিতে সেটি প্রকাশ করা হয়েছিল এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে।
নোটিসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল। এর পর কংগ্রেস নেতৃত্ব লিখিত জবাব দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা জানায়।
১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনও ওই মন্তব্যের সমালোচনা করেছিল। দুই সংগঠনই বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছিল।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেই সময় এই বিতর্ক সামনে আসে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি এবং দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী নেতারা। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই কেরল কংগ্রেসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত মন্তব্যটি প্রকাশিত হয়।
কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও ওই পোস্ট থেকে নিজেদের দূরত্ব স্পষ্ট করেছিল। অন্যদিকে, বিজেপি বিষয়টিকে বিচারব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছিলেন, কংগ্রেস সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা করছে।
কেরল কংগ্রেস স্বীকার করেছে, এই ঘটনা দলের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও নজরদারির ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি সামনে এনেছে। পোস্ট তৈরি করা থেকে শুরু করে তা প্রকাশ করা পর্যন্ত কোন কোন ব্যক্তি কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখবে দল।
পাশাপাশি, অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার, পোস্ট অনুমোদনের পদ্ধতি এবং ডিজিটাল রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক রেকর্ড সংরক্ষণের কথাও জানিয়েছে কংগ্রেস।
দলের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতবিরোধ প্রকাশের অধিকার থাকলেও জনসমক্ষে মন্তব্য করার সময় সাংবিধানিক পদগুলির মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন। বিতর্কিত পোস্টের ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেরল কংগ্রেস।











