রাজস্থানের সিকরে ১৮ বছরের কলেজছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, সন্তানের জন্মের পর পকসো আইনে মামলা

রাজস্থানের সিকরে পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৮ বছরের কলেজছাত্রী পরীক্ষায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে শনাক্ত হন। সন্তানের জন্মের পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাজস্থানের সিকর জেলায় পেটে ব্যথার অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৮ বছর বয়সি এক কলেজছাত্রী চিকিৎসকদের পরীক্ষায় প্রায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে শনাক্ত হয়েছেন। পরে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ। ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনসহ অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের সিকর জেলার বাসিন্দা ওই তরুণী বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন। ২৮ অক্টোবর সকালে তাঁর পেটে ব্যথা শুরু হয়। ব্যথা বাড়তে থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি প্রায় ৩২ সপ্তাহ অর্থাৎ আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই তথ্য সামনে আসার পর পরিবারের সদস্যরাও বিস্মিত হন। তরুণীর শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরীক্ষার ভিত্তিতে জানানো হয়, তাঁর প্রসবের সময় হয়েছে।

চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তরুণী একটি সন্তানের জন্ম দেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নবজাতক সুস্থ রয়েছে। তবে মা ও নবজাতকের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশকর্মীরা হাসপাতালে পৌঁছে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিবরণ জানতে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। কীভাবে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলেন এবং এই ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশকে দেওয়া বয়ানে তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি কখন ঘটেছিল এবং এর সঙ্গে কার ভূমিকা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনের পরিচয় বা গ্রেফতারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করবে পুলিশ।

এই ঘটনায় পুলিশ পকসো আইনের একাধিক ধারা যুক্ত করেছে। ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তরুণীর বর্তমান বয়স ১৮ বছর। ফলে অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাটি যখন ঘটেছিল, তখন তাঁর বয়স কত ছিল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার সময় তাঁর বয়স ১৮ বছরের কম হয়ে থাকলে পকসো আইন প্রয়োগের আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

এই আইনের ক্ষেত্রে ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট নথি ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তরুণীর বয়স এবং ঘটনার সময়কাল যাচাই করতে হবে পুলিশকে।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে পুলিশ। প্রথমে তরুণীর বয়ান এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে পারে তদন্তকারী দল।

তদন্তে কোনও সন্দেহভাজনের নাম উঠে এলে তাঁর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ও প্রক্রিয়া মেনে মোবাইল ফোনের রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টও তদন্তে ব্যবহার করা হতে পারে।

এই ধরনের মামলায় বয়ান এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই ঘটনায় তদন্তের জন্য পুলিশ ঠিক কী কী পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Leave a comment