উত্তরাখণ্ডের একাধিক জেলায় শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, আবহাওয়ার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া দফতর নৈনিতাল, চম্পাবত, পিথোরাগড়, বাগেশ্বর এবং চামোলি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের কমলা ও হলুদ সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও ত্রাণের প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার নৈনিতাল, চম্পাবত, পিথোরাগড়, বাগেশ্বর এবং চামোলি জেলায় আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিকূল থাকতে পারে। এই জেলাগুলির কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি পিথোরাগড়, বাগেশ্বর, নৈনিতাল এবং চম্পাবত জেলার কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলায় বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রাজ্যের উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি তুষারপাতও হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব রাস্তায় আগে থেকেই ধস নামা বা পাথর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলিতে যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার পর মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি রাজ্য প্রশাসন এবং সমস্ত জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকাকালীন পার্বত্য এলাকাগুলিতে ট্রেকিংয়ের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেছেন তিনি।
উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে পর্যটকদের যাতায়াতের উপর বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেসব এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বৃষ্টি বা ধসের কারণে কোনও রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দফতরকে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যা না হয়।
![]()
মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত জেলাশাসককে জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত আধিকারিকদের পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলার ইনসিডেন্ট রেসপন্স সিস্টেম (IRS)-এর অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং বিভিন্ন দফতরের নোডাল আধিকারিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব, গ্রামোন্নয়ন এবং পঞ্চায়েতি রাজ দফতরের আধিকারিকদেরও নিজেদের এলাকায় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), দমকল বিভাগ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-সহ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে একসঙ্গে কাজ করে দ্রুত বিপর্যস্ত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তরফে জারি করা নতুন সতর্কবার্তাগুলির উপর নিয়মিত নজর রাখা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতকারী মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া কিংবা বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের যাত্রা শুরুর আগে আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।










