রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একদিকে সিটিজেন্স ফর ডেমোক্রেসি সংসদীয় কার্যপ্রণালীর আদলে মক পার্লামেন্ট আয়োজন করছে। অন্যদিকে, INDIA জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘জন মহাভিযোগ’ কর্মসূচি পালন করবে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এই দুই কর্মসূচিতে আলোচনা হবে। সিটিজেন্স ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনের মূল বিষয় ‘গণতন্ত্র বনাম অরাজকতা’। অন্যদিকে, বিরোধী জোট নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে সামনে আনবে।
সিটিজেন্স ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগে নয়াদিল্লির NDMC কনভেনশন সেন্টারে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মক পার্লামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ অংশগ্রহণকারীরা এই কর্মসূচিতে শাসক ও বিরোধী দলের নেতাদের ভূমিকায় অংশ নেবেন।
সংসদের কার্যপ্রণালীর আদলে তৈরি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেন, নিজেদের বক্তব্য পেশ করবেন এবং একাধিক ইস্যুতে বিতর্কে অংশ নেবেন।
আয়োজকদের উদ্দেশ্য, তরুণ প্রজন্মকে সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা। কর্মসূচিতে ১৫ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্রস্তাবিত বিলের উপর ২৬ মিনিটের বিতর্ক এবং পাঁচ মিনিটের প্রতীকী ভোটাভুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মক পার্লামেন্টে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি EVM-এর কার্যপ্রণালী, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং বিরোধীদের তোলা ভোট চুরির অভিযোগও আলোচনায় উঠে আসবে।
সংসদীয় রীতিনীতি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির বিষয়েও আলোচনা হবে। প্রতিবাদ জানানোর গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।
তবে এই কর্মসূচিতে বিজেপির কোনও নেতা বা সাংসদের অংশগ্রহণের খবর নেই। সিটিজেন্স ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগেই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, INDIA জোট তাদের পূর্বনির্ধারিত মক পার্লামেন্ট কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করেছে। নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জন মহাভিযোগ’।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ১০, রাজাজি মার্গের বাসভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। কংগ্রেসের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ৩টে ৩০ মিনিটে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার অনুষ্ঠানের কার্যপ্রণালী পরিচালনা করবেন।
তাঁকে সহায়তা করার দায়িত্ব দেওয়া হবে সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদকে। এটি কোনও প্রকৃত সাংবিধানিক মহাভিযোগের প্রক্রিয়া নয়, বরং বিরোধীদের আয়োজিত একটি প্রতীকী রাজনৈতিক কর্মসূচি।
বিরোধীদের এই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ জন বক্তার অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন।
![]()
অধিকাংশ বক্তার জন্য পাঁচ মিনিট করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের বক্তব্য রাখার জন্য ১০ মিনিট করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা এবং রাহুল গান্ধীর ভাষণের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরও মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে ভোটারদের অধিকার প্রভাবিত হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী জোট।
বিরোধীদের কর্মসূচির মধ্যেই বিজেপি ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ অভিযান শুরু করেছে। গত ২৮ অক্টোবর দিল্লির চাঁদনি চক এলাকায় এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন দলের সভাপতি নীতিন নবীন।
পদযাত্রায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং বিজেপির অন্যান্য নেতারাও অংশ নেন। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের প্রচারের বিরোধিতা করছে বিজেপি। পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আস্থা বজায় রাখার বার্তাও দিচ্ছে দলটি।
৩০ অক্টোবরের জন মহাভিযোগ কর্মসূচির পর আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে INDIA জোট।
এই সমাবেশে SIR, কথিত ভোট চুরি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসবে। ফলে আগামী তিন দিন দিল্লিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত শুক্রবারের দুটি কর্মসূচি এবং সেখানে উত্থাপিত বিষয়গুলির দিকেই রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।











