২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য সিপাহী নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দরভাঙ্গা জেলা প্রশাসন এবং পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সব বিভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অনিয়মমুক্তভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলায় মোট ২৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষাকালীন কোনো ধরনের অবহেলা বা নিয়ম লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ প্রবেশের নির্ধারিত সময় শেষ হলে কোনো পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে উচ্চমানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে নজরদারির আওতায় থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকেও সব কেন্দ্রের লাইভ পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, কেউ পরীক্ষার গোপনীয়তা নষ্ট করার বা নিয়ম ভঙ্গের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অপব্যবহার ঠেকাতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে জ্যামার বসানো হবে। জ্যামার চালু থাকাকালে মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য বেতার যোগাযোগ সেবা প্রভাবিত থাকবে, যাতে ব্লুটুথ, ইয়ার ডিভাইস বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা ব্যর্থ করা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর নকলের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন এ বছর কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণভাবে সুশৃঙ্খল করা হয়েছে। প্রধান ফটকে পরীক্ষার্থীদের নিবিড় তল্লাশি করা হবে। প্রবেশের আগে অ্যাডমিট কার্ড, বৈধ ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর ও ফ্রিস্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অনুমোদিত সামগ্রী নিয়ে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ ডিভাইস, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, লিখিত নোট, কাগজের টুকরা বা যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক সামগ্রী বহন নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসন পরীক্ষার্থীদের সময় সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই কেন্দ্রে পৌঁছানো প্রয়োজন। নির্ধারিত রিপোর্টিং সময় শেষ হলে কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এরপর দেরির কারণ যাই হোক না কেন, কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের মতে, পরীক্ষার গোপনীয়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর আশপাশেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রাধ্যক্ষ, ফ্লাইং স্কোয়াড এবং তদারকি কর্মকর্তাদের পৃথক দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় করতে দেওয়া হবে না। অভিভাবক ও অন্যান্য ব্যক্তিদেরও কেন্দ্রের আশপাশে ভিড় না করার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, সব পরীক্ষা কেন্দ্রের পূর্বপরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, শৌচাগার, আলোর ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ব্যাকআপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেখানে কোনো ঘাটতি পাওয়া গেছে, সেখানে সময়মতো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যাতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাধাহীনভাবে কার্যকর থাকে।
জেলা প্রশাসন পরীক্ষার্থীদের শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার এবং কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর বার্তায় বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে পরীক্ষা-সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়ানো ব্যক্তিদের ওপরও প্রশাসনের নজর থাকবে। কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকলের ব্যবস্থা করা বা পরীক্ষা ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষার আগের দিনই নিজেদের কেন্দ্রের অবস্থান, সেখানে পৌঁছানোর পথ এবং যাতায়াতের সময় নিশ্চিত করে নিতে। সম্ভাব্য যানজট এবং নিরাপত্তা তল্লাশিতে সময় লাগতে পারে বিবেচনায় রেখে যথেষ্ট আগে বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরামদায়ক এবং নির্ধারিত ড্রেস কোড অনুযায়ী পোশাক পরে আসতে বলা হয়েছে, যাতে তল্লাশি প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলায় অনুষ্ঠিতব্য এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অনিয়মমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জ্যামার, সিসিটিভি, ফ্লাইং স্কোয়াড, ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ বাহিনীর বিস্তৃত মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সব বিভাগের সমন্বয় এবং পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতায় পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।











