নালন্দায় ফায়ার NOC ও অগ্নি-নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাইয়ে কোচিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি লাইব্রেরিতে প্রশাসনের অভিযান

নালন্দা জেলা প্রশাসন কোচিং প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি লাইব্রেরি, স্টাডি সেন্টার এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যরিমানা, সিলিংসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নালন্দায় ফায়ার NOC ও অগ্নি-নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাইয়ে কোচিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি লাইব্রেরিতে প্রশাসনের অভিযান
Photo Credit / Attribution: Google

নালন্দা জেলায় অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন একটি বিস্তৃত পরিদর্শন অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলার সব কোচিং প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি লাইব্রেরি, স্টাডি সেন্টার এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের অনাপত্তি সনদ (ফায়ার NOC) সংগ্রহ করেনি বা যেখানে প্রয়োজনীয় অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিলও করা হবে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক পর্যালোচনা করেছে। এর অংশ হিসেবে নালন্দা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জেলার কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।

প্রশাসনের নির্দেশের পর অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ, নগর সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ দল কোচিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি লাইব্রেরি পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের সময় ভবনে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে কি না, সেগুলো কার্যকর অবস্থায় আছে কি না, জরুরি বহির্গমন পথ রয়েছে কি না, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা আছে কি না এবং বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থাও যাচাই করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার স্থাপন করাই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না। প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের নিশ্চিত করতে হবে যে কর্মীরা এগুলোর ব্যবহার জানেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর যন্ত্রগুলোর সার্ভিসিং করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বহু ক্ষেত্রে পরিদর্শনে দেখা গেছে, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করা থাকলেও সেগুলোর বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী নয়। এমন ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলায় বিপুল সংখ্যক কোচিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি লাইব্রেরি পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য আসে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বহুতল ভবনে পরিচালিত হয়। প্রশাসনের মতে, এসব ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সব পরিচালকদের সময়মতো ফায়ার NOC সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে এই পরিদর্শন অভিযান কেবল আনুষ্ঠানিকতা হবে না। কোনো প্রতিষ্ঠানে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লে প্রথমে নোটিশ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিল করা, জরিমানা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।

অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের নিজ উদ্যোগে ভবনের নিরাপত্তা নিরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো ভবনে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ, ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা বা অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে তা দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আইনগত ব্যবস্থা এড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে

প্রশাসনের মতে, অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় কোচিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি লাইব্রেরিতে অবস্থান করে। তাই এসব স্থানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা পরিচালকদের দায়িত্ব। কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মানবজীবনের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। সে কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক।

জেলা প্রশাসন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুতর ঘাটতি দেখা গেলে প্রশাসন বা অগ্নিনির্বাপণ বিভাগকে তা জানানো যেতে পারে। প্রশাসন জানিয়েছে, নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেও তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হবে।

আগামী দিনে পুরো জেলাজুড়ে ধাপে ধাপে এই অভিযান পরিচালিত হবে। পরিদর্শনকারী দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নয়, জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়। কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং ফায়ার NOC ছাড়া বা নিরাপত্তা মানদণ্ড লঙ্ঘন করে পরিচালিত কোচিং প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি লাইব্রেরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a comment