মুহররম উপলক্ষে গয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ প্রস্তুতি, নির্ধারিত শাটডাউন ও ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার আহ্বান

মুহররম উপলক্ষে গয়ায় নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ নির্ধারিত শাটডাউন, প্রযুক্তিগত পরিদর্শন, অতিরিক্ত দল মোতায়েন এবং গ্রাহকদের ধাপে ধাপে উচ্চ বিদ্যুৎ-ব্যবহারকারী যন্ত্র চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
মুহররম উপলক্ষে গয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ প্রস্তুতি, নির্ধারিত শাটডাউন ও ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার আহ্বান
Photo Credit / Attribution: google

মুহররম উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গয়ার বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এই লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ শাটডাউন করা হবে। বিভাগ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কোনো ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি করা নয়; বরং উৎসব চলাকালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও প্রযুক্তিগতভাবে স্থিতিশীল রাখা। শাটডাউনের সময় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, লাইন পরিদর্শন এবং ফিডারের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা হবে, যাতে তাজিয়া মিছিল ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বাধা না আসে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একযোগে এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াটার পাম্প, সাবমার্সিবল মোটর, গিজার, ওয়েল্ডিং মেশিন, বড় মোটর বা অন্যান্য উচ্চ বিদ্যুৎ-ব্যবহারকারী যন্ত্র চালু না করতে। বিভাগের মতে, শাটডাউনের পর একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ভারী লোডের যন্ত্র চালু করলে ফিডার ও ট্রান্সফরমারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে ফিডার ট্রিপ করা, ট্রান্সফরমারে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ফিউজ নষ্ট হওয়া বা কিছু এলাকায় পুনরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই গ্রাহকদের ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুহররম উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন অংশে তাজিয়া মিছিল, মজলিস এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম এবং অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হয়। এ সময় সাধারণ দিনের তুলনায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর বেশি চাপ থাকে। আগে থেকে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা না করা হলে সামান্য ত্রুটিতেও বৃহৎ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে উৎসবের আগে সব প্রধান ফিডার, ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইন পরিদর্শন করা হয়েছে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে মেরামতের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, মুহররম চলাকালে শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত দল মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি দলকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, স্পেয়ার পার্টস এবং যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে কোনো অভিযোগ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা যায়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম সক্রিয় থাকবে, যেখান থেকে পুরো শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো এলাকায় ট্রিপিং, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া বা ট্রান্সফরমার-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিভাগ মুহররম কমিটি ও মিছিল আয়োজকদের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, উঁচু তাজিয়া, আলম বা অন্যান্য কাঠামো উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে নেওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোথাও বিদ্যুৎ লাইন অতিরিক্ত নিচু অবস্থায় থাকলে বা মিছিলের পথে কোনো প্রযুক্তিগত বাধা থাকলে আগেভাগেই বিদ্যুৎ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কর্মকর্তাদের মতে, উৎসব চলাকালে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে উৎসবের সময় একাধিকবার আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তাই বিভাগ আগে থেকেই প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছে, এটিকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা শাটডাউনের সময়সূচি আগেভাগে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা যায়। ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই নির্ধারিত সময় আগে থেকে জানানো হলে অসুবিধা কম হবে।

গ্রীষ্মকাল বিবেচনায় রেখেও বিভাগ নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যুৎ আসার সঙ্গে সঙ্গে সবাই যদি একযোগে এয়ার কন্ডিশনার, কুলার ও মোটর চালু করেন, তাহলে পুরো নেটওয়ার্কে হঠাৎ লোড বেড়ে যায়। তাই প্রথমে প্রয়োজনীয় যন্ত্র ব্যবহার করে কয়েক মিনিট পর অন্যান্য ভারী যন্ত্র চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে এবং ট্রিপিংয়ের সম্ভাবনাও কমবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মুহররম চলাকালে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় বজায় রাখা হবে। যেসব পথ দিয়ে প্রধান মিছিল যাবে, সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। প্রয়োজন হলে ঘটনাস্থলেই প্রযুক্তিগত কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন, যাতে যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়। কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের লক্ষ্য হলো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং কোনো নাগরিককে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় সমস্যার মুখোমুখি হতে না দেওয়া।

বিভাগ নাগরিকদের আরও অনুরোধ করেছে, কোথাও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেলে, ট্রান্সফরমার থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা গেলে বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা চোখে পড়লে তা নিজেরা সমাধানের চেষ্টা না করে অবিলম্বে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস বা হেল্পলাইনে জানাতে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অসতর্কতা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তাই নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা সবার দায়িত্ব।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, মুহররম চলাকালে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিভাগ জানিয়েছে, গ্রাহকরা যদি তাদের পরামর্শ মেনে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের পর ধাপে ধাপে বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করেন, তাহলে ফিডার ও ট্রান্সফরমারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না এবং শহরজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগের দলগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা হবে।

Leave a comment