চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে কে. ভাগ্যরাজের মৃত্যু

তামিল সিনেমার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার কে. ভাগ্যরাজ শনিবার চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পরিচালক, অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক ও গীতিকার হিসেবে ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদান রাখেন।

শনিবার চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তামিল সিনেমার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার কে. ভাগ্যরাজের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে তামিল চলচ্চিত্র জগতসহ সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

কে. ভাগ্যরাজ তামিল সিনেমায় এমন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ, হাস্যরসাত্মক ও আবেগঘন উপস্থাপনায় বড় পর্দায় তুলে ধরতেন। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তাঁর চলচ্চিত্র তামিল চলচ্চিত্র শিল্পের গতিপথ পরিবর্তন করেছিল। তাঁর চিত্রনাট্যে সামাজিক বার্তা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও বিনোদনের সমন্বয় দেখা যেত।

দীর্ঘ কর্মজীবনে কে. ভাগ্যরাজ চলচ্চিত্র শিল্পে একাধিক ভূমিকায় কাজ করেছেন। তিনি ২৫টির বেশি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন, ৭৫টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক ও গীতিকার হিসেবেও অবদান রেখেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে Mundhanai Mudichu, Andha 7 Naatkal এবং Darling, Darling, Darling। এই চলচ্চিত্রগুলো আজও তামিল সিনেমার ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে কে. ভাগ্যরাজের মৃত্যু

কে. ভাগ্যরাজ শুধু তামিল সিনেমাতেই নয়, হিন্দি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। ১৯৮৬ সালে তিনি Aakhree Raasta চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, জয়া প্রদা, শ্রীদেবী ও অনুপম খের। চলচ্চিত্রটি সে সময়ের সফল ছবিগুলোর একটি ছিল এবং এটি জাতীয় পর্যায়ে তাঁর গল্প বলার দক্ষতাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

তামিল সিনেমায় তাঁর অবদানকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয় যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সুপারস্টার এম.জি. রামচন্দ্রন (এমজিআর) তাঁকে চলচ্চিত্র শিল্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর লেখনী ও পরিচালনা বহু নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও কে. ভাগ্যরাজ জনজীবনে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনে অংশ নিতেন। জানা গেছে, কয়েক দিন আগে তিনি গোয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী অভিনেত্রী পূর্ণিমা ভাগ্যরাজ, অভিনেতা পুত্র শান্তনু ভাগ্যরাজ এবং কন্যা সারণ্য ভাগ্যরাজকে।

তাঁর পরিবারের কাছে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন মহল থেকে ধারাবাহিকভাবে শোকবার্তা পৌঁছাচ্ছে। কে. ভাগ্যরাজকে শুধু একজন অভিনেতা বা পরিচালক হিসেবে নয়, একজন সৃজনশীল নির্মাতা হিসেবেও স্মরণ করা হবে, যিনি ভারতীয় সিনেমাকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর চলচ্চিত্রে সামাজিক বাস্তবতা ও বিনোদনের সমন্বয় দেখা যেত এবং তাঁর উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করবে।

 

Leave a comment