দরভাঙ্গা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে ফ্র্যাকচার রোগীদের চিকিৎসার সময় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালে প্লাস্টার দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত র্যাপিডুর না থাকায় রোগীদের পরিজনদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাজার থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের প্লাস্টার-সংক্রান্ত সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে বলা হলে তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে রোগী ও তাদের পরিজনদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা যাচ্ছে।
অর্থোপেডিক বিভাগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী আসেন, যাদের দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া বা অন্যান্য কারণে হাড়ে ফ্র্যাকচার হওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এদের মধ্যে অনেক রোগীর দ্রুত প্লাস্টার দেওয়ার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর যখন পরিজনদের প্লাস্টারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাজার থেকে কিনতে বলা হয়, তখন তাদের প্রথমে হাসপাতালের বাইরে মেডিকেল স্টোরে যেতে হয়।
র্যাপিডুর না থাকার কারণে রোগীদের সমস্যার বিষয়টি সামনে আসার পর হাসপাতাল প্রশাসনও পরিস্থিতির দিকে নজর দিয়েছে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, র্যাপিডুর শিগগিরই পাওয়া যাবে। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি দ্রুত আনার কথা বলা হয়েছে, যাতে ফ্র্যাকচার রোগীদের চিকিৎসার সময় বাইরে থেকে সামগ্রী কিনতে না হয়।
ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে প্লাস্টার চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। হাড় ভেঙে গেলে চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা করে ফ্র্যাকচারের পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত অংশকে স্থির রাখার জন্য প্লাস্টার করা হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাসপাতালে থাকা জরুরি, বিশেষ করে এমন সরকারি হাসপাতালে যেখানে দূরবর্তী এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন।
দরভাঙ্গা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তর বিহারের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এখানে দরভাঙ্গার পাশাপাশি মধুবনী, সমस्तीপুর, সীতামঢ়ী, সুপৌল, মধেপুরা এবং আশপাশের এলাকা থেকেও রোগীরা আসেন। গুরুতর চোট ও ফ্র্যাকচারের রোগীরাও বিপুল সংখ্যায় এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন। ফলে অর্থোপেডিক বিভাগে কোনও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগী ও তাদের পরিজনদের ওপর।
অনেক রোগী আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে আসেন। তাদের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত সামগ্রী কেনাও সমস্যার কারণ হতে পারে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না থাকলে পরিজনদের প্রথমে মেডিকেল স্টোর খুঁজে বের করতে হয় এবং পরে সামগ্রী নিয়ে হাসপাতালে ফিরতে হয়। এর ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়াতেও সময় লাগতে পারে।
রোগীদের পরিজনদের বক্তব্য, তারা যখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন, তখন তাদের প্রত্যাশা থাকে যে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাসপাতাল থেকেই পাওয়া যাবে। কিন্তু প্লাস্টারের জন্য ব্যবহৃত সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে বলা হলে তাদের আর্থিক ও মানসিক—দুই ধরনের সমস্যার মুখেই পড়তে হয়। বিশেষ করে দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সঙ্গে আসা পরিজনদের জন্য হাসপাতালের বাইরে গিয়ে সামগ্রী নিয়ে আসা সহজ নয়।
অর্থোপেডিক বিভাগে ফ্র্যাকচার রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় র্যাপিডুরের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর নিয়মিত সরবরাহ জরুরি। সরবরাহে দেরি হলে তার প্রভাব চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে। হাসপাতাল প্রশাসনের বক্তব্য, সামগ্রীর ঘাটতি দূর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টের পক্ষ থেকে র্যাপিডুর শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেওয়ার পর রোগীদের মধ্যে স্বস্তির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, হাসপাতালে কত দ্রুত এর সরবরাহ হয় এবং নিয়মিত স্টক বজায় রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুধু একবার সামগ্রী সরবরাহ করার পরিবর্তে ভবিষ্যতে যাতে এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য স্টকের নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন হবে।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাধারণ হাসপাতালের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হয়। তাই প্রয়োজনীয় মেডিকেল সামগ্রীর পর্যাপ্ত স্টক বজায় রাখা হাসপাতাল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অর্থোপেডিক বিভাগে প্লাস্টারের সামগ্রীর প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থার প্রয়োজন, যাতে ফ্র্যাকচার রোগীদের চিকিৎসার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাজারের ওপর নির্ভর করতে না হয়।
রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রক্রিয়া যত দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, ততই ভালো। বিশেষ করে ফ্র্যাকচারের ক্ষেত্রে চোটের পর চিকিৎসকের পরীক্ষা এবং আক্রান্ত অংশকে যথাযথভাবে স্থির করা প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্লাস্টারের সামগ্রী না থাকলে রোগী ও তাদের পরিজনরা স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়েন।
হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত র্যাপিডুর সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। এর নিয়মিত সরবরাহ শুরু হলে রোগীদের বাইরে থেকে সামগ্রী কেনার সমস্যার অবসান হতে পারে। এর পাশাপাশি হাসপাতালে অন্যান্য প্রয়োজনীয় অর্থোপেডিক সামগ্রীর স্টকও সময়ে সময়ে পরীক্ষা করা জরুরি, যাতে চিকিৎসার সময় কোনও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি না হয়।
দরভাঙ্গা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ আশপাশের জেলা ও গ্রামীণ এলাকা থেকে আসেন। তাদের জন্য হাসপাতাল চত্বরের বাইরে মেডিকেল স্টোরে গিয়ে সামগ্রী নিয়ে আবার ফিরে আসা অতিরিক্ত সমস্যার কারণ হয়। তাই হাসপাতালের ভিতরেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা রোগীদের সুবিধার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে অর্থোপেডিক বিভাগে র্যাপিডুরের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসার পর রোগীদের বাজার থেকে প্লাস্টারের সামগ্রী কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট দ্রুত এটি সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন। এখন রোগী ও তাদের পরিজনরা এই সামগ্রীর সরবরাহ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে ফ্র্যাকচারের চিকিৎসার সময় তাদের অতিরিক্ত খরচ ও দৌড়ঝাঁপ থেকে স্বস্তি মিলতে পারে।












