দরভাঙ্গায় বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি রেস্তোরাঁর পরিচালকের ওপর প্রায় ২০ জন যুবক হামলা চালিয়ে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নগর থানা এলাকার সার্ভে অফিস চত্বরের একটি ঝটকা মিট রেস্তোরাঁয়। বুধবার সন্ধ্যার পর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, যুবকেরা রেস্তোরাঁয় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষতি করে। প্রতিবাদ করলে রেস্তোরাঁর পরিচালক এবং বাধা দিতে এগিয়ে আসা মহিলা কর্মীদের সঙ্গেও মারধর ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়।
মারধরে রেস্তোরাঁর পরিচালক গুরুতর আহত হন। এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য দরভাঙ্গা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (DMCH)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। আহত পরিচালকের পরিচয় মধুবনী জেলার পাণ্ডৌল থানা এলাকার সরসোপাহী রামপুর গ্রামের বাসিন্দা অবধেশ কুমার ঝার ছেলে ৩২ বছর বয়সি সুমিত কুমার ঝা হিসেবে জানানো হয়েছে। সুমিত এই রেস্তোরাঁ পরিচালনা করে পরিবারের ভরণপোষণ করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার বিষয়ে সুমিত কুমার ঝা জানান, ঘটনার প্রায় তিন-চার দিন আগে দীপক ঝা নামে এক যুবক তাঁর প্রায় আট বন্ধুকে নিয়ে রেস্তোরাঁয় খেতে এসেছিলেন। খাওয়ার পর বিল মেটানোর সময় ওই যুবক জানান, তাঁর কাছে তখন টাকা নেই এবং পরের দিন টাকা পরিশোধ করবেন। রেস্তোরাঁ পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় তিনি বিশ্বাস করে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেননি।
এরপর বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় রেস্তোরাঁর পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। অভিযোগ, ফোন করার পরও বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় দীপক ঝা আচমকাই প্রায় ২০ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে রেস্তোরাঁয় পৌঁছান বলে অভিযোগ। পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছেই যুবকেরা হইচই শুরু করে এবং রেস্তোরাঁয় থাকা চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য সামগ্রী ভাঙতে শুরু করে।
রেস্তোরাঁ পরিচালকের দাবি, তিনি যুবকদের ভাঙচুরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, যুবকেরা তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং চেয়ার ও লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার সময় রেস্তোরাঁয় উপস্থিত মহিলা কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও কথিতভাবে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এই সময় রেস্তোরাঁয় দীর্ঘক্ষণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবকের কাছে ছুরি থাকার কথাও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্তদের কাছে থাকা অস্ত্র সম্পর্কে পুলিশ এখনও বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করেনি। ঘটনার পর অভিযুক্তেরা সেখান থেকে চলে যায়। আশপাশের লোকজন আহত রেস্তোরাঁ পরিচালককে সামলে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর নগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করে। পুলিশ রেস্তোরাঁয় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। ঘটনায় CCTV ফুটেজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রেস্তোরাঁয় লাগানো ক্যামেরায় পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে পরিচালকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ওই ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আহত পরিচালক সুস্থ হয়ে আবেদন দেওয়ার পর এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আপাতত CCTV ফুটেজ এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবকদের শনাক্ত ও খোঁজ করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তের গ্রেফতারের বিষয়ে সরকারি তথ্য সামনে আসেনি।
যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ব্যস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে রেস্তোরাঁয় বিপুল সংখ্যক যুবকের উপস্থিতি, ভাঙচুর এবং পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনায় আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আলোচনা চলছে যে বকেয়া টাকা নিয়ে কোনও বিরোধ থাকলে তা আলোচনা বা আইনি পদ্ধতিতে সমাধান করা যেত। তবে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ পরিস্থিতিকে গুরুতর করে তুলেছে।
পুরো ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ। CCTV ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার সময় রেস্তোরাঁয় কতজন উপস্থিত ছিলেন, মারধরে কারা জড়িত ছিলেন এবং কীভাবে ভাঙচুর করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার ধারাবাহিকতাও খতিয়ে দেখছে। আহত পরিচালকের বক্তব্য এবং মেডিক্যাল রিপোর্টও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রেস্তোরাঁ পরিচালকের অভিযোগ অনুযায়ী, বকেয়া টাকা ফেরত না দেওয়া থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। তবে পুলিশি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়া এবং এফআইআর দায়েরের পরই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের অবস্থান স্পষ্ট হবে। আপাতত পুলিশের নজর CCTV ফুটেজ সংগ্রহ, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দিকে।
দরভাঙ্গার এই ঘটনায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বকেয়া টাকা পরিশোধ এবং তা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ও সামনে এসেছে। ছোট-বড় দোকানদার এবং রেস্তোরাঁ পরিচালকদের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ কখনও কখনও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়। এই ঘটনাতেও কথিতভাবে বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয় থেকে শুরু হয়ে পরিস্থিতি মারধর ও ভাঙচুর পর্যন্ত পৌঁছায়। পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, ঘটনায় কতজন সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং কারও ভূমিকা শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পর্যন্ত সীমিত ছিল কি না।
আপাতত আহত রেস্তোরাঁ পরিচালকের DMCH-তে চিকিৎসা চলছে। পুলিশ CCTV ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে এবং এফআইআর দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই স্থানীয়দের নজর রয়েছে।











