বিহারের নালন্দা জেলার বিহারশরিফ শহরের ব্যাগনাবাদ মহল্লায় বুধবার রাতে রাস্তায় কথিতভাবে নেশা করা কয়েকজন যুবককে সেখান থেকে সরে যেতে বলাকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির সঙ্গে বিবাদ বাধে। অভিযোগ, দম্পতিকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। ঘটনার সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা শিশুটিও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং ব্যাগনাবাদের গলিতে ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনাটি বিহারশরিফ থানার ব্যাগনাবাদ মহল্লার বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে এক দম্পতি তাঁদের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় পথে কয়েকজন যুবক কথিতভাবে নেশা করছিলেন। যাতায়াতকারী মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে দম্পতি তাঁদের সেখানে নেশা না করে অন্যত্র চলে যেতে বলেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কথা বলার পর যুবকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে দম্পতির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই কথাকাটাকাটি গালিগালাজ ও মারধরে পরিণত হয়। দম্পতির সঙ্গে থাকা শিশুটিও এই ঘটনার সময় আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিশুটির আঘাত কতটা গুরুতর, সেই বিষয়ে উপলব্ধ রিপোর্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনার খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাগনাবাদের গলিতে ইট-পাথর চলতে থাকে। এর ফলে এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ শুরু হওয়া ইট-পাথর ছোড়াছুড়ির কারণে অনেকে বাড়ি থেকে বের হওয়া এড়িয়ে চলেন। পরিস্থিতি অবনতির খবর পুলিশকে দেওয়া হয়।
খবর পাওয়ার পর ডিএসপি অমরনাথের নেতৃত্বে বিহার থানার পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সেখানে উপদ্রব করা লোকজনকে সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের লোকজন পিছিয়ে যান এবং মহল্লায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘটনায় পুলিশ এক সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের মতে, রাজা নামে এক যুবককে ঘটনার মূল সূত্রধর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার রজক জানান, রাজাকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য ঠিকানাগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ওই যুবকের বিরুদ্ধে এর আগেও অপরাধমূলক মামলা রয়েছে এবং সে জেলে গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় তার ভূমিকা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
ঘটনার পর পুলিশ আশপাশে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। বিবাদ কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং ইট-পাথর ছোড়াছুড়িতে কারা জড়িত ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে উপদ্রবে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পুলিশের মতে, ফুটেজ থেকে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট করতে সাহায্য মিলতে পারে। দম্পতি ও যুবকদের মধ্যে বিবাদ কীভাবে শুরু হয়েছিল, মারধরে কারা জড়িত ছিলেন এবং পরে ইট-পাথর ছোড়াছুড়িতে কতজন অংশ নিয়েছিলেন, তদন্তে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে দুই পক্ষের কাছ থেকে আবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্তের ফল এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্য কোনও প্রমাণে কারও ভূমিকা সামনে এলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইট-পাথর ছোড়াছুড়ির পর ফের বিবাদ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকায় ব্যাগনাবাদে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘটনার সময় কিছুক্ষণের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনও নতুন ঘটনার খবর এখনও পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য পুনরায় সংঘাত রোধ এবং এলাকায় নজরদারি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বর্তমানে ব্যাগনাবাদে এক সন্দেহভাজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার মূল সূত্রধর হিসেবে উল্লেখ করা রাজাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অন্য উপদ্রবকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












