Darjeeling Tourism: ছ’মাসেই বদলাবে পাহাড়ের পর্যটনচিত্র! ৫ রোপওয়ে থেকে টি ফেস্টিভ্যাল, হোমস্টে রেজিস্ট্রেশনেও বড় বদল

দার্জিলিং পর্যটনে বড় পরিকল্পনা। ৫টি রোপওয়ে, অনলাইন হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন, টি ফেস্টিভ্যাল, র‍্যাফটিং ও প্যারাগ্লাইডিং-সহ একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা।

দার্জিলিং যেতে ভালোবাসেন? পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে যানজটে আটকে যাওয়ার দিন কি এবার কমবে? পর্যটকদের সুবিধা এবং পাহাড়ের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নত করতে বড় পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে পর্যটন দফতর ও জিটিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আগামী ছ’মাসের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দার্জিলিংকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন রোপওয়ে, হোমস্টে ব্যবস্থায় অনলাইন পরিষেবা এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন নিয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দার্জিলিংকে ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ করার পরিকল্পনা

পাহাড়ের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শিলিগুড়িতে বৈঠকে বসেছিল পর্যটন দফতর ও জিটিএ। বৈঠকে আগামী ছ’মাসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনা করা হয়।দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি কালিম্পং, মিরিক, দুধিয়া, মংপু এবং কার্শিয়াংয়ের মতো পর্যটন এলাকাগুলিকেও নতুনভাবে সাজানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। লক্ষ্য, পাহাড়ের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটকদের যাতায়াত ও বিনোদনের সুযোগ আরও বাড়ানো।

টি ফেস্টিভ্যাল থেকে র‍্যাফটিং, থাকছে নানা আয়োজন

পর্যটকদের জন্য শুধুমাত্র পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে টি ফেস্টিভ্যাল, ভিন্টেজ কার র‍্যালি, ওয়াকাথন, রিভার রাফটিং এবং প্যারাগ্লাইডিং-এর মতো আয়োজনের কথা উঠে এসেছে।এর ফলে দার্জিলিং ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলিতে পর্যটনের মরশুমের বাইরেও আকর্ষণ তৈরি করার সুযোগ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যানজট কমাতে ৫টি রোপওয়ে প্রকল্প

দার্জিলিংয়ের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। পর্যটনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে যানজট কমানোর জন্য পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে।রোপওয়ে চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটনস্থলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নতুনভাবে সাজানো হবে একাধিক পর্যটনস্থল

পাহাড়ের পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে মহাকাল মন্দির, সেবকের কালীমন্দির, কালিঝোরার পুরনো বাংলো এবং মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে।পর্যটকদের কাছে এই জায়গাগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন এবার অনলাইনেই

পাহাড়ের পর্যটনে হোমস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে কতগুলি হোমস্টে বর্তমানে সরকারি ভাবে রেজিস্টার্ড এবং কতগুলি এখনও রেজিস্ট্রেশনের বাইরে রয়েছে, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউয়াল অনলাইনে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন হোমস্টে চালু করতে চাইলে সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হোমস্টে ও ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি পলিসি নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে হোমস্টে পলিসির পাশাপাশি ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি পলিসি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইট নতুন করে সাজানো এবং পাহাড়ের সরকারি পর্যটন সম্পত্তি ও জমির উন্নয়ন নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।পর্যটন খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ ৫৭ কোটি টাকা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপুজোয় আলোর সাজে নতুন রূপ দার্জিলিং

দুর্গাপুজো উপলক্ষে দার্জিলিংয়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে চকবাজার ও ম্যাল রোডে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা রয়েছে।পুজোর সময় পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। সেই সময় শহরের পরিবেশ ও পর্যটন আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলতেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে আগামী ছ’মাসের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়িতে পর্যটন দফতর ও জিটিএ-র বৈঠকে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্প, অনলাইনে হোমস্টে রেজিস্ট্রেশন ও রিনিউয়াল, টি ফেস্টিভ্যাল, ভিন্টেজ কার র‍্যালি, রিভার রাফটিং, প্যারাগ্লাইডিং-সহ একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Leave a comment