প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের (Defence Acquisition Council-DAC) বৈঠকে প্রায় ৫২,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
ভারত সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি এবং নজরদারি সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
এই প্রস্তাবগুলির লক্ষ্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উৎসাহিত করা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনাগুলির মাধ্যমে ভারতের কৌশলগত সক্ষমতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রোন-বিরোধী ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ‘আকাশ তরঙ্গ’, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, মধ্যম পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যন্ত স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক ট্যাঙ্ক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং জেট-ভিত্তিক লয়টারিং মিউনিশন।
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এবং সাঁজোয়া যুদ্ধযানের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থাগুলিকে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন সংঘাতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘আকাশ তরঙ্গ’ ব্যবস্থাকে সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত, নজরদারি এবং নিষ্ক্রিয় করতে সহায়তা করবে।
![]()
এছাড়া, নতুন প্রজন্মের অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল শত্রুপক্ষের সাঁজোয়া যান ও যুদ্ধ ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম হবে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে মধ্যম পাল্লা এবং অত্যন্ত স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়েরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলির উদ্দেশ্য বিভিন্ন উচ্চতায় আসা আকাশপথের হুমকি, যেমন যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং অন্যান্য আকাশীয় লক্ষ্য দ্রুত শনাক্ত করে সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় করা।
নতুন ট্যাঙ্ক সুরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করতে সহায়তা করবে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সাঁজোয়া যানগুলির টিকে থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি, জেট-ভিত্তিক লয়টারিং মিউনিশন সেনাবাহিনীকে তুলনামূলক কম ব্যয়ে উচ্চ নির্ভুলতাসম্পন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা প্রদান করবে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে মোতায়েনযোগ্য বিশেষ মাইন, যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা (Unmanned Aerial Systems) এবং বৈদ্যুতিক চালিত প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষার জন্য স্থলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন।
এই প্রযুক্তিগুলির মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি, কৌশলগত টহল, সাবমেরিন-বিরোধী অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম বিশেষ বিমান চলাচল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য উন্নত নজরদারি সরঞ্জাম ক্রয়েরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, যোগাযোগে সহায়তা এবং বাস্তবসময়ে কৌশলগত তথ্য সরবরাহে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে বায়ুসেনার নজরদারি সক্ষমতা এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।













