ওয়ার্ড-১৯-এর বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের এলাকা এখন আবাসিক এলাকার তুলনায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের মতো দেখাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা, ভাঙাচোরা রাস্তা, নোংরা ও অবরুদ্ধ নালা এবং বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের নিয়মিত সমস্যার কারণে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
ওয়ার্ডের গলি ও প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে আবর্জনা বহুদিন ধরে পড়ে থাকছে। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মাছি-মশার উপদ্রব বাড়ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে, কারণ আবর্জনা নালায় গিয়ে জমে সেগুলি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জল জমে যায় এবং পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
এলাকার অধিকাংশ রাস্তা গর্তে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তার উপরিভাগ উঠে যাওয়ায় দুই চাকার ও চার চাকার যানবাহন চালকদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক বড় গর্তে বৃষ্টির জল জমে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গর্তের কারণে বহু পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
নালাগুলির নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সেখানে প্লাস্টিক, মাটি ও গৃহস্থালির আবর্জনা জমে রয়েছে। এর ফলে নোংরা জল রাস্তায় উপচে পড়ছে। বহু বাড়ির সামনে নোংরা জল জমে থাকায় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ এবং সংক্রামক রোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ছে।
ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, যার ফলে গরমের সময় মানুষকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি, কয়েকটি মহল্লায় পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে বাসিন্দাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে পৌর কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, মাঝে মাঝে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হলেও নিয়মিত ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
এলাকার ব্যবসায়ীদের দাবি, নোংরা পরিবেশ ও খারাপ রাস্তার কারণে ক্রেতাদের যাতায়াতও প্রভাবিত হচ্ছে। বর্ষাকালে দোকানের সামনে জল জমে ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের প্রতিদিন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় আবর্জনা জমে থাকা এবং নালায় নোংরা জল আটকে থাকার ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়মতো আবর্জনা অপসারণ এবং জলনিকাশী ব্যবস্থা সচল রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা পৌর কর্পোরেশন ও প্রশাসনের কাছে ওয়ার্ড-১৯-এ বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ, ভাঙা রাস্তার মেরামত, নালা পরিষ্কার এবং বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সময়মতো এসব সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।











