নয়াদিল্লির তিলক নগর এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় ২১ বছর বয়সী তরুণী মুসকানকে তাঁর বাড়িতে ঢুকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষক ইমরান ঘটনার পর থেকে পলাতক এবং পুলিশ CCTV ফুটেজের সাহায্যে তাঁর সন্ধান চালাচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মুসকানের পরিচিত ইমরান তাঁর বাড়িতে পৌঁছে ছুরি দিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং আশপাশের CCTV ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মুসকানের পরিবারের সদস্যরা কোনও কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। অভিযোগ, এই সুযোগে ইমরান তাঁর বাড়িতে পৌঁছে মুসকানের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা করেন।
হামলায় তরুণী গুরুতর আহত হন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবার ও পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর এলাকায় মানুষের ভিড় জমে যায়।
পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, অভিযুক্ত কীভাবে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন এবং ঘটনার আগে তাঁর সঙ্গে মুসকানের কী কথা হয়েছিল। তদন্তে CCTV ফুটেজের পাশাপাশি কল ডিটেল ও অন্যান্য উপলব্ধ প্রমাণও ব্যবহার করা হতে পারে।
ঘটনার পর পুলিশ আশপাশের CCTV ক্যামেরার রেকর্ডিং সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তের গতিবিধি, বাড়ির আশপাশে তাঁর উপস্থিতি এবং ঘটনার পর তিনি কোন দিকে পালিয়ে যান, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত DCP অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্তের সন্ধান করছে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্তের সম্ভাব্য ঠিকানাগুলিও খতিয়ে দেখছে।
অভিযুক্ত একাই এসেছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিল, তাও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। বর্তমানে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা যায়নি।
মৃতার এক বন্ধু দাবি করেছেন, ইমরান বেশ কিছুদিন ধরে মুসকানকে হয়রানি করছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইমরান একটি জিমে প্রশিক্ষক ছিলেন এবং দুজনেই একে অপরকে চিনতেন।
বন্ধুর অভিযোগ, ইমরান মুসকানের সঙ্গে কথা না হলে তাঁকে হয়রানি করতেন এবং তাঁর পিছু নিতেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত তরুণীর ওপর বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন এবং মুসকান তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
তবে এই অভিযোগগুলি এখনও পুলিশের তদন্তের অংশ এবং এগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ হয়নি। পুলিশ মুসকানের পরিচিত ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুজনের সম্পর্কের ধরন এবং এর আগে কোনও অভিযোগ বা বিরোধ হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে।
মৃতার বন্ধুর মতে, মুসকান পড়াশোনা করছিলেন এবং পাশাপাশি পার্টটাইম মডেলিংও করতেন। তাঁর পরিবার ও পরিচিতদের মতে, তিনি স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্যেই ব্যস্ত থাকতেন।
![]()
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে পরিবারের এক সদস্য ঘটনার খবর পান। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, অভিযুক্ত কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে, মুসকান অভিযুক্তকে আগে থেকেই চিনতেন কি না এবং সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন কি না।
এছাড়া ঘটনার আগে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ছিল কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। কল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন, CCTV ফুটেজ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পুলিশ এও জানার চেষ্টা করছে, অভিযুক্ত ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরিটি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন, নাকি সেটি বাড়িতেই ছিল। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সম্ভাব্য প্রমাণের ফরেনসিক পরীক্ষা তদন্তের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
তদন্তের সময় পুলিশ এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে যে মুসকান এর আগে কখনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন কি না অথবা তাঁর আচরণ সম্পর্কে পরিবার ও বন্ধুদের কিছু জানিয়েছিলেন কি না।
মৃতার বন্ধুর করা অনুসরণ ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তদন্তের ধরন আরও গুরুতর হতে পারে। পুলিশ জানার চেষ্টা করবে, অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আগে কোনও হুমকি, চাপ বা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল কি না।
তবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে পুলিশের তদন্ত এবং উপলব্ধ প্রমাণের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
মুসকানের হত্যার পর তাঁর পরিবারে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ও পরিচিতদের মতে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার বহু মানুষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পুলিশ ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা বাড়িয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পরই হত্যার সম্পূর্ণ কারণ এবং ঘটনাক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে।
বর্তমানে তদন্তের মূল লক্ষ্য অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা।
পুলিশের ধারণা, CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ থেকে অভিযুক্তের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর সম্ভাব্য ঠিকানাগুলির ওপরও নজর রাখছে।
হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, অভিযুক্ত ও মৃতার মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল এবং আগে থেকে কোনও বিরোধ চলছিল কি না, এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
বর্তমানে অভিযুক্ত ইমরান পলাতক। পুলিশ তাঁর সন্ধান চালাচ্ছে এবং হত্যার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত তথ্য সামনে আনার চেষ্টা করছে।










