তুগলকাবাদ এলাকার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের পার্কিং এলাকায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ছয়জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থিত পার্কিং এলাকায় রাখা দুই চাকার যানবাহন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনকে গ্রাস করে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রায় ২:৩৫ মিনিটে জরুরি ফোনকল পাওয়ার পর একাধিক দমকল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের তীব্রতায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনের শিখা গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর রাত ৩:৪৫ মিনিট নাগাদ আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পার্কিংয়ে রাখা স্কুটি ও মোটরসাইকেলে প্রথমে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং একের পর এক যানবাহন থেকে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্কিংয়ে থাকা তিনটি স্কুটি, দুটি মোটরসাইকেল এবং একটি সাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতার কারণে আশপাশের এলাকায়ও ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ভবনের বহু বাসিন্দা ভেতরে আটকা পড়েন। ভবনটি একটি সরু গলির মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধারকাজে দমকলকর্মীদের যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

উদ্ধারকারী দল সিঁড়ির সাহায্যে ছাদে পৌঁছে সেখানে থাকা তালা ভেঙে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে বের করে আনে। কয়েকজনকে সিঁড়ি ও দড়ির সাহায্যে নিচে নামানো হয়।
উদ্ধার অভিযানের সময় ছাদের পথ ব্যবহার করে দুই কিশোরীসহ কয়েকজনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। তাদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কয়েকজনকে শাড়ি ও অস্থায়ী দড়ির সাহায্যে নিচে নামানো হয়।
এই ঘটনায় একজন যুবক ও দুই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয়জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পার্কিংয়ে থাকা যানবাহনের শর্ট সার্কিট বা কোনো দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন লাগতে পারে। যানবাহনের সংখ্যা বেশি এবং স্থানটি বদ্ধ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া ও আগুনের শিখা গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছে যাওয়ায় বাসিন্দাদের বের হতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরু গলির কারণে দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অসুবিধার সম্মুখীন হয়। এছাড়া ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় উদ্ধারকাজেও বাধা সৃষ্টি হয়। পরে তালা ভেঙে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকল বাহিনীকে সহায়তা করে বহু মানুষকে নিরাপদে বের করে আনতে সাহায্য করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ভবনের পেছনের দিক দিয়ে মানুষকে বের করে আনতে সহায়তা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েক দিন আগে একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে আগামী দিনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা নিরীক্ষা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।










