ধনবাদ রেলওয়ে স্টেশনে ৪৩.৯৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, দুই কথিত পাচারকারী গ্রেপ্তার

ধনবাদ রেলওয়ে স্টেশনে আরপিএফ ও রেল পুলিশ ৪৩.৯৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে দুই কথিত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালানটি ভুবনেশ্বর থেকে আনা হয়েছিল এবং পলাতক কথিত মূলহোতার সন্ধানসহ পাচারচক্রের তদন্ত চলছে।
ধনবাদ রেলওয়ে স্টেশনে ৪৩.৯৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, দুই কথিত পাচারকারী গ্রেপ্তার
Photo Credit / Attribution: Google

ধনবাদ রেলওয়ে স্টেশনে আরপিএফ ও রেল পুলিশ প্রায় ৪৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে দুই কথিত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই অভিযুক্ত ভুবনেশ্বর থেকে গাঁজার চালান নিয়ে ধনবাদে পৌঁছেছিল।

পুলিশের মতে, উদ্ধার হওয়া গাঁজার মোট ওজন প্রায় ৪৩.৯৪ কেজি। দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাতে চালানটি কার জন্য আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে তা জানা যায়। মামলায় কথিত মূলহোতা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও রেল নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে গাঁজা পাচারের তথ্য পৌঁছানোর পর ধনবাদ স্টেশন চত্বরে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হয়। সেই সময় দুই অভিযুক্তকে আটক করে তাদের সামগ্রীর তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে গাঁজার চালান পাওয়ার পর তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ভুবনেশ্বর থেকে ধনবাদ পর্যন্ত গাঁজা কোন মাধ্যমে পৌঁছেছিল এবং এরপর কোথায় সরবরাহ করার কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্যও পরীক্ষা করা হতে পারে।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, দুই গ্রেপ্তার অভিযুক্ত শুধুমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করছিল, নাকি পাচারচক্রে তাদের আরও বড় ভূমিকা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে অন্য অভিযুক্তদের নাম সামনে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তদন্তে পলাতক কথিত মূলহোতার ভূমিকা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ তার সম্ভাব্য অবস্থান ও যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করতে পারে। গ্রেপ্তার অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাচারচক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

তদন্তে গাঁজার চালানের উৎস এবং চূড়ান্ত সরবরাহস্থল শনাক্ত করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন রুট এবং কোন ব্যক্তিদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে।

গাঁজা উদ্ধারের পর বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী তদন্তের জন্য সুরক্ষিত রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের পর এর সত্যতা নিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে স্টেশনে মাদকের বড় চালান ধরা পড়ার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি বাড়ানো হতে পারে। যাত্রীদের সামগ্রী এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি পাচারের সম্ভাব্য রুট সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

পুলিশ দুই অভিযুক্ত এর আগে অন্য কোনো মামলায় জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে পারে। তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড পরীক্ষা করার পাশাপাশি অন্য রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করা হতে পারে। পুরনো কোনো পাচারচক্রের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র পাওয়া গেলে তদন্তের পরিধি বাড়তে পারে।

ভুবনেশ্বর থেকে ধনবাদ পর্যন্ত গাঁজা পৌঁছানোর ঘটনায় আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের সক্রিয়তার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চালান পৌঁছে দিতে রেল ও সড়কপথ ব্যবহার করা হয়। বাহক গ্রেপ্তারের পর পাচারচক্রের মূল পরিচালকদের কাছে পৌঁছানো তদন্তকারী সংস্থাগুলির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকে।

ধনবাদে এই অভিযানে প্রায় ৪৩.৯৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং দুই কথিত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য চালানটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং পলাতক কথিত মূলহোতার কাছে পৌঁছানো।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজার চালান ধনবাদেই সরবরাহ করার কথা ছিল, নাকি অন্য কোনো শহরে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে। অভিযুক্তদের যাত্রার বিবরণ, মোবাইল অবস্থান এবং যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করে এ বিষয়ে সূত্র খোঁজা হচ্ছে।

বর্তমানে দুই গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক বলে উল্লেখ করা কথিত মূলহোতার সন্ধান চলছে। পুলিশের লক্ষ্য শুধু চালান উদ্ধারে সীমাবদ্ধ না থেকে এর সঙ্গে যুক্ত পুরো পাচারচক্রের সন্ধান করা।

Leave a comment