বিজ্ঞপ্তি জারির পরও TRE-4 নিয়ে বিহারে শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

বিহারে TRE-4-এর আওতায় ৩২,৩৮৮টি শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন চলবে। PT-Mains বাতিল, ডোমিসাইল নীতি কার্যকর এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি জারির পরও TRE-4 নিয়ে বিহারে শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত
Photo Credit / Attribution: Google

 

বিহারে শিক্ষক নিয়োগের চতুর্থ পর্যায় অর্থাৎ TRE-4-এর বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন শেষ হয়নি। বিহার লোকসেবা কমিশন শিক্ষা বিভাগে TRE-4-এর আওতায় ৩২,৩৮৮টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন প্রক্রিয়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোলেও আন্দোলনকারী ছাত্রদের বক্তব্য, এতে তাদের সব দাবি পূরণ হয়নি।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রধান দাবির মধ্যে PT-Mains ব্যবস্থা বাতিল, বিহারে ডোমিসাইল নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা রয়েছে। বিহার স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এই দাবিগুলি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছে। ছাত্রদের বক্তব্য, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাদের মূল দাবিগুলিতে সরকার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

TRE-4 নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে পাটনার গর্দনীবাগ ছাত্র আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে রয়েছে। ছাত্ররা জানিয়েছে, তারা শুধু নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নয়, পরীক্ষা ও নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন চায়।

TRE-4-এর বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৩২,৩৮৮টি পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষক পদপ্রার্থী আবেদন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোলেও আন্দোলনকারী ছাত্রদের বক্তব্য, তাদের দাবি এর বাইরে আরও বিস্তৃত।

ছাত্রদের PT-Mains বাতিলের দাবি পরীক্ষার পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত। আন্দোলনকারীরা চান, শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক ধাপে পরীক্ষা দিতে না হয়। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া যতটা স্পষ্ট ও সরল হবে, প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়া তত সহজ হবে।

ডোমিসাইল নীতির বিষয়টি বিহারে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের বিষয়। বিহার সরকার শিক্ষক নিয়োগে TRE-4 এবং TRE-5 থেকে ডোমিসাইল নীতি কার্যকর করার কথা জানিয়েছিল। এই নীতির উদ্দেশ্য হিসেবে বিহারের বাসিন্দাদের শিক্ষক নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, বিহারের যুবকদের রাজ্যের সরকারি চাকরিতে পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়া উচিত। তাদের যুক্তি, রাজ্যের যুবকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং নিয়োগে স্থানীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে বিহারের যুবকদের সরাসরি সুবিধা হবে।

অন্যদিকে, ডোমিসাইল নীতি নিয়ে সরকারের সামনে নিয়োগের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়টিও রয়েছে। ছাত্ররা যে ধরনের নীতির দাবি করছে, তার প্রকৃত রূপ সরকারের জারি করা নিয়ম এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।

TRE-4-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এখন ছাত্রদের নজর নিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর পরীক্ষা, পরীক্ষাকেন্দ্র, অ্যাডমিট কার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের বক্তব্য, সরকারকে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কিত তাদের প্রশ্নগুলিরও সমাধান করতে হবে। ছাত্রদের মতে, PT-Mains নিয়ে তাদের দাবির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিহার স্টুডেন্ট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে সরকারকে ছাত্রদের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের বক্তব্য, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে শুধু আশ্বাসের পরিবর্তে তারা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চায়।

TRE-4 নিয়ে আন্দোলনে শুধু পরীক্ষা ব্যবস্থার বিষয়টি নেই। ছাত্ররা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, সময়মতো পরীক্ষা আয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ সম্পন্ন করার মতো বিষয়ও তুলেছে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনগুলিতে এসব দাবি ধারাবাহিকভাবে উত্থাপিত হয়েছে।

পাটনায় ছাত্রদের আন্দোলন রাজনৈতিক পরিসরেও আলোচনায় এসেছে। বিরোধী দলের নেতারাও ছাত্র ও যুবকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলছেন। এর ফলে TRE-4-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া বিহারে যুবসমাজ এবং সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সামনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সময়মতো এগিয়ে নেওয়া এবং প্রার্থীদের অভিযোগের সমাধান করার বিষয়টি রয়েছে। পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক পরিবর্তন বা বিলম্ব হলে প্রার্থীদের প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রভাবিত হতে পারে।

TRE-4-এর বিজ্ঞপ্তির পর প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। কমিশন আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা প্রকাশ করেছে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তথ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করতে হবে।

ছাত্রদের আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ সরকারের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সরকার PT-Mains এবং ডোমিসাইল নীতির মতো দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করলে আন্দোলনের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, দাবিগুলির বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না হলে ছাত্রদের আন্দোলন অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

TRE-4-এর আওতায় ৩২,৩৮৮টি পদে নিয়োগের ফলে বিহারের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষকসংক্রান্ত ঘাটতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিপুল সংখ্যক যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের উপস্থিতিও বাড়তে পারে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্রদের উদ্বেগ রয়েছে।

প্রার্থীদের বক্তব্য, তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক ছাত্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বছরের পর বছর সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্পষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে সময়মতো সম্পন্ন করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা না রাখা উচিত।

সরকার ও ছাত্রদের মধ্যে আলোচনা এই বিরোধের অন্যতম পথ হতে পারে। ছাত্রদের দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টতা তৈরি হলে আন্দোলন শেষ করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে ছাত্রদের বক্তব্য, দাবিগুলির বিষয়ে নির্দিষ্ট উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন শেষ হবে না।

Leave a comment