পর্দায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত ওম পুরী ছিলেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনে বারবার খবরের শিরোনামে এসেছেন তিনি। প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুরকে বিয়ের মাত্র একদিন আগে নিজের একটি গোপন সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন বলে তাঁর জীবনী ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এরপরও তাঁদের দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বিয়ের আগের দিনই জানালেন গোপন কথা
ওম পুরীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল অভিনেতা অন্নু কাপুরের বোন সীমা কাপুরের সঙ্গে। বিয়ের ঠিক আগের দিন হবু স্ত্রীকে তিনি নিজের অতীত সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের ঝালাওয়ারে একটি নদীর ধারে সীমাকে আলাদা করে নিজের জীবনের সেই গোপন কথা জানিয়েছিলেন ওম পুরী। তিনি নাকি স্বীকার করেছিলেন, তাঁর বাড়ির পরিচারিকার সঙ্গে একটা সময় তাঁর সম্পর্ক ছিল।এমন কথা বিয়ের ঠিক আগের দিন শুনে সীমা যে অত্যন্ত হতবাক হয়েছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের নানা বিবরণে উঠে এসেছে।
মাত্র আট মাসেই ভেঙে যায় প্রথম সংসার
ওম পুরী ও সীমা কাপুরের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের প্রায় আট মাসের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।সীমা পরবর্তীতে দাবি করেছিলেন, তিনি গর্ভবতী থাকাকালীন ওম পুরীর জীবনে অন্য এক নারীর প্রবেশ ঘটে। সেই নারী ছিলেন সাংবাদিক নন্দিতা। তাঁদের পরিচয় ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয় বলে জানা যায়।
গর্ভাবস্থায় সম্পর্কের টানাপোড়েন
সীমার বক্তব্য অনুযায়ী, যখন তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখনই স্বামীর জীবনে নন্দিতার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। পরিস্থিতি তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।এরপর তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে রাজস্থানে নিজের পরিবারের কাছে চলে যান। ব্যক্তিগত জীবনের এই গভীর মানসিক চাপের মধ্যেই তাঁর গর্ভের সন্তানকেও হারাতে হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্তান হারানোর পর আরও কঠিন সময়
সন্তান হারানোর ঘটনায় সীমা আরও ভেঙে পড়েন। সেই সময় ওম পুরী তাঁকে ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সীমা সেই অর্থ গ্রহণ করেননি।অন্নু কাপুরও বোনের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলেও সীমা তাতে সম্মতি দেননি।
দ্বিতীয় বিয়েও সুখের হয়নি
সীমা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ওম পুরী সাংবাদিক নন্দিতাকে বিয়ে করেন। কিন্তু দ্বিতীয় দাম্পত্যও শেষ পর্যন্ত শান্তির হয়নি।পরবর্তীতে নন্দিতা ওম পুরীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন। তবে ওম পুরী সেই অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়েছিলেন। ফলে দ্বিতীয় সংসারেও তৈরি হয় গভীর টানাপোড়েন।
জীবনের শেষ পর্বে প্রথম স্ত্রীর কাছে ক্ষমা
ওম পুরীর জীবনের শেষ অধ্যায়ও ছিল আবেগঘন। অসুস্থতার সময় জীবনের পুরনো সম্পর্কগুলির দিকে ফিরে তাকিয়েছিলেন তিনি বলে জানা যায়।লন্ডনে অস্ত্রোপচারের আগে তিনি প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুরকে ফোন করেছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। সেই ফোনালাপে নিজের অতীতের কিছু কাজের জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও জানা যায়।
পর্দায় সাফল্য, ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি
ওম পুরীর অভিনয়জীবন ছিল অসামান্য সাফল্যে পূর্ণ। ভারতীয় সিনেমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁর জীবনকে জটিল করে তুলেছিল।প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে দ্বিতীয় সংসারে ওঠা অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন তাঁর অভিনয়জীবনের মতো মসৃণ ছিল না।
প্রখ্যাত অভিনেতা ওম পুরীর অভিনয়জীবন ছিল সাফল্যে ভরা, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা টানাপোড়েন ও বিতর্কে জর্জরিত। প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুরকে বিয়ের ঠিক আগের দিন নিজের পুরনো সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। পরে তাঁদের দাম্পত্যে ভাঙন ধরে। এরপর সাংবাদিক নন্দিতা পুরীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সেই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত নানা অভিযোগ ও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যায়।







