১০ বছর ধরে গলব্লাডারে পাথর! দিলজিৎ দোসাঞ্জের স্বীকারোক্তিতে সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের, বাড়তে পারে ক্যানসার-সহ একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকি

১০ বছর ধরে গলব্লাডারে পাথর! দিলজিৎ দোসাঞ্জের স্বীকারোক্তিতে সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের, বাড়তে পারে ক্যানসার-সহ একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকি

জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের একটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি তিনি জানান, ২০১৫ সালে তাঁর গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়েছিল। চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও এখনও সেই অস্ত্রোপচার করাননি। এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গলস্টোনকে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

১০ বছরের পুরনো সমস্যা, এখনও হয়নি অস্ত্রোপচার

দিলজিৎ জানান, দীর্ঘদিন আগে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে পরীক্ষায় তাঁর পিত্তথলিতে প্রায় ১১-১২ মিলিমিটারের একটি পাথর ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি এখনও সেই সিদ্ধান্ত নেননি। এই তথ্য সামনে আসতেই চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সব গলস্টোনের ক্ষেত্রে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন না হলেও, উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গলস্টোন কী? কেন হয় এই সমস্যা?

গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পিত্তরস জমে শক্ত হয়ে গেলে তাকে গলস্টোন বা পিত্তপাথর বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনও উপসর্গ থাকে না। তবে পাথর যদি পিত্তনালিতে আটকে যায়, তাহলে তীব্র পেটব্যথা, বমি, জ্বর বা হজমের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বড় আকারের গলস্টোন থাকলে পিত্তথলিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাথরের আকার ২ সেন্টিমিটারের বেশি হলে গলব্লাডার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। তবে সব গলস্টোন রোগীর ক্যানসার হবে—এমন নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে পাথরের আকার, উপসর্গ, প্রদাহ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার উপর।

আরও যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে

গলস্টোনের কারণে শুধু ক্যানসার নয়, আরও কয়েকটি গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাথর যদি অগ্ন্যাশয়ের নালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার বিষয়। আবার প্রধান পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হলে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে কোলাঞ্জাইটিস হতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে সেপসিসের মতো প্রাণঘাতী অবস্থারও সৃষ্টি করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার ডান দিকের ওপরের পেটে ব্যথা, খাবারের পরে অস্বস্তি, জ্বর, বমি, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের অবস্থা নির্ণয় করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।

অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ জানিয়েছেন, প্রায় এক দশক ধরে তাঁর পিত্তথলিতে (গলব্লাডার) পাথর রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও এখনও অস্ত্রোপচার করাননি তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন গলস্টোন অবহেলা করলে ক্যানসার, প্যানক্রিয়াটাইটিস, জন্ডিস ও কোলাঞ্জাইটিসের মতো গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

Leave a comment