পার্লে-জি-র ‘G’-এর আসল অর্থ কী? IPO-র জল্পনার মাঝেই সামনে এল ৯৭ বছরের ইতিহাস

পার্লে-জি-র ‘G’-এর আসল অর্থ কী? IPO-র জল্পনার মাঝেই সামনে এল ৯৭ বছরের ইতিহাস

এক কাপ গরম চা আর পার্লে-জি বিস্কুট—এই জুটি যেন ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জনপ্রিয় এই বিস্কুটকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বাজারে জোর জল্পনা যে পার্লে প্রোডাক্টস ভবিষ্যতে শেয়ার বাজারে আইপিও (IPO) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে আবার সামনে এসেছে পার্লে-জি নামের ‘G’-এর প্রকৃত অর্থ এবং ব্র্যান্ডটির দীর্ঘ ইতিহাস।

‘Parle Gluco’ থেকেই ‘Parle-G’

বর্তমানের পরিচিত নামটি কিন্তু শুরু থেকেই ছিল না। প্রথমদিকে এই বিস্কুট বাজারে এসেছিল Parle Gluco নামে। ষাটের দশকে একই ধরনের গ্লুকোজ বিস্কুট বিভিন্ন সংস্থা প্রায় একই নামে বিক্রি করতে শুরু করলে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে ১৯৮২ সালে সংস্থা ব্র্যান্ডটির নতুন পরিচয় দেয়—Parle-G। এরপর থেকেই এই নামটি গোটা দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

‘G’-এর আসল অর্থ কী?

অনেকেই মনে করেন, পার্লে-জি-র ‘G’ মানেই Genius। কিন্তু বাস্তবে ব্র্যান্ডটির সূচনালগ্নে ‘G’-এর অর্থ ছিল Glucose। পরে বিজ্ঞাপনী প্রচারে শিশুদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলতে সংস্থা ‘G for Genius’ স্লোগান ব্যবহার করে। সেই প্রচার এতটাই সফল হয় যে আজও অনেকেই ‘G’-এর অর্থ জিনিয়াস বলেই মনে করেন।

প্রায় এক শতাব্দীর পুরনো ঐতিহ্য

১৯২৯ সালে মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে এলাকায় মোহনলাল দয়াল একটি ছোট কারখানা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। প্রথমদিকে সেখানে মূলত ক্যান্ডি তৈরি হতো। মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ পরে ভারতের অন্যতম বড় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থায় পরিণত হয়। ১৯৩৯ সালে প্রথম বিস্কুট উৎপাদন শুরু হয় এবং সাশ্রয়ী দামে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় পার্লে গ্লুকো।

সংকটের সময়ও থামেনি পথচলা

দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে গমের তীব্র সংকটের কারণে পার্লে গ্লুকোর উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। সেই সময় সংস্থা বিকল্প হিসেবে যব বা বার্লি ব্যবহার করে নতুন ধরনের বিস্কুট বাজারে আনে। কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও পুরনো উৎপাদনে ফিরে আসে পার্লে, যা সংস্থার দীর্ঘ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

শুধু বিস্কুট নয়, আজ বিশ্বজোড়া ব্যবসা

বর্তমানে পার্লে প্রোডাক্টস শুধু পার্লে-জি নয়, বিস্কুট, ক্যান্ডি, চকোলেট, স্ন্যাকস, কেক, রাস্কসহ একাধিক খাদ্যপণ্য তৈরি করে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের বহু উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এবং বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে সংস্থার পণ্য রপ্তানি হয়। Hide & Seek, Krackjack, Monaco, Melody, Kismi ও Mango Bite-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও এই সংস্থার অধীনেই রয়েছে।

IPO-কে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

বাজারে জোর জল্পনা, পার্লে প্রোডাক্টস ভবিষ্যতে আইপিও আনার পরিকল্পনা করছে। যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও সম্ভাব্য শেয়ার ইস্যুকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বহু বছর ধরে পরিচিত এই ব্র্যান্ডে বিনিয়োগের সুযোগও মিলতে পারে।

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় বিস্কুট ব্র্যান্ড পার্লে-জি-কে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে সম্ভাব্য IPO-র খবরকে কেন্দ্র করে। সেই সঙ্গে অনেকের মনেই প্রশ্ন—পার্লে-জি-র ‘G’ আসলে কী বোঝায়? জেনে নিন ব্র্যান্ডটির নামকরণের ইতিহাস, দীর্ঘ পথচলা এবং অজানা কিছু তথ্য।

Leave a comment