বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত স্ত্রীর খোরপোশের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু ভারতীয় আইনে এমন কিছু পরিস্থিতি রয়েছে, যেখানে স্বামীও স্ত্রীর কাছে খোরপোশ বা আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারেন। বিশেষ করে কোনও স্বামী নিজের জীবনযাপন ও আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত আয় করতে না পারলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধুমাত্র কম আয় থাকলেই খোরপোশ পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না।
হিন্দু বিবাহ আইনে কী বলা রয়েছে?
হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ২৪ ও ২৫ ধারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী ও স্ত্রী—উভয়ের জন্যই আর্থিক সহায়তার আইনি সুযোগ রাখে।মামলা চলাকালীন কোনও পক্ষের নিজের জীবনযাপন এবং আইনি খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন আয় না থাকলে আদালত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আর্থিক সহায়তার নির্দেশ দিতে পারে। অর্থাৎ, যোগ্য পরিস্থিতিতে স্বামীও এই আইনি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।
শুধু আয় কম হলেই কি খোরপোশ মিলবে?
না। স্বামীর আয় কম—এটিই খোরপোশ পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। আদালত আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
এক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে—
স্বামীর নিজস্ব আয় ও সম্পত্তি
উপার্জনের সক্ষমতা
আর্থিক নির্ভরশীলতা
জীবনযাত্রার মান
চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজন
মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক দায়
স্ত্রী ও স্বামীর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি
অর্থাৎ, প্রতিটি মামলার তথ্য ও পরিস্থিতির ভিত্তিতেই আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কখন স্বামীর দাবি জোরালো হতে পারে?
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি বেকার বা কম উপার্জনকারী স্বামী স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোরপোশ পাবেন। আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাস্তব আর্থিক পরিস্থিতি এবং উপার্জনের সক্ষমতাও খতিয়ে দেখতে পারে।
স্বামী-স্ত্রীর আয় সমান হলে কী হবে?
স্বামী এবং স্ত্রীর আয় ও আর্থিক সক্ষমতা যদি প্রায় সমান হয়, তাহলে একজনকে অন্যজনের ভরণপোষণ দেওয়ার প্রয়োজন আদালত নাও মনে করতে পারে।তবে সন্তানদের দায়িত্ব, চিকিৎসার খরচ কিংবা কোনও বিশেষ আর্থিক দায় যদি একজনের উপর তুলনামূলক বেশি থাকে, তাহলে সেই বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।
কত টাকা খোরপোশ পাওয়া যাবে?
খোরপোশের ক্ষেত্রে ভারতীয় আইনে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক বা বাধ্যতামূলক হিসেবের ফর্মুলা নেই। তাই একটি মামলায় যে পরিমাণ অর্থ নির্ধারিত হয়েছে, অন্য মামলাতেও একই পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে—এমনটা নয়।আদালত সাধারণত উভয় পক্ষের আয়, সম্পত্তি, জীবনযাত্রার মান, প্রয়োজন, দায়িত্ব এবং অন্যান্য আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।
খোরপোশের উদ্দেশ্য কী?
সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের আলোকে খোরপোশের মূল উদ্দেশ্য কোনও পক্ষকে শাস্তি দেওয়া নয়। বরং আর্থিকভাবে নির্ভরশীল জীবনসঙ্গী যাতে ন্যায্য ও সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী স্ত্রী যেমন আর্থিক সহায়তার দাবি করতে পারেন, তেমনই আইনের নির্দিষ্ট বিধানের অধীনে স্বামীর জন্যও আদালতের কাছে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিবাহবিচ্ছেদ বা দাম্পত্য মামলা চলাকালীন খোরপোশের দাবি শুধু স্ত্রীর অধিকার—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামীও স্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তা বা ভরণপোষণ চাইতে পারেন। হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ২৪ ও ২৫ ধারায় কী রয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে স্বামীর দাবি বিবেচিত হতে পারে, জেনে নিন।










