ড্রাইভিং লাইসেন্সে বড় বদলের ভাবনা! ২০ বছরের বদলে ৫০ বছরের বৈধতা? RTO-র ঝক্কি কমাতে কেন্দ্রের নতুন পরিকল্পনা

ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে কেন্দ্র সরকার। RTO-র ঝামেলা কমাতে ও পরিবহন পরিষেবা ডিজিটাল করতে কী পরিকল্পনা রয়েছে, জানুন বিস্তারিত।

বারবার RTO অফিসে গিয়ে লাইসেন্স রিনিউ করার ঝামেলা কি এবার অতীত হতে চলেছে? এমনই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কেন্দ্র সরকারের নতুন ভাবনাকে ঘিরে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং পরিবহন পরিষেবাগুলিকে আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

লাইসেন্স নবীকরণে বড় পরিবর্তনের ভাবনা

বর্তমানে ভারতে সাধারণ ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত থাকে। নির্দিষ্ট সময় পার হলে লাইসেন্স নবীকরণের জন্য আবেদন, নথি যাচাই এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শংসাপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয়। ফলে বহু মানুষকে একাধিকবার RTO অফিসে যেতে হয়।এই পরিস্থিতি বদলাতেই নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের বিবেচনাধীন পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাইসেন্সের বৈধতা ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করা হতে পারে। এতে একবার লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় আর নবীকরণের প্রয়োজন পড়বে না।

কোটি কোটি চালকের জন্য কী সুবিধা?

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের লক্ষ লক্ষ গাড়িচালক সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। বারবার আবেদন, কাগজপত্র জমা এবং অফিসে যাওয়ার ঝামেলা কমে যাবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক চাপও অনেকটাই হ্রাস পাবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা দ্রুত হলে নাগরিকদের সময় ও অর্থ—দু’টিই সাশ্রয় হবে। গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকার মানুষও সহজে পরিষেবা পেতে পারবেন।

শুধু লাইসেন্স নয়, আরও পরিষেবা আসতে পারে অনলাইনে

পরিবহন মন্ত্রকের লক্ষ্য শুধুমাত্র ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধি নয়। গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, নথিপত্র স্থানান্তর, পারমিট নবীকরণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অধিকাংশ কাজ বাড়িতে বসেই অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে RTO অফিসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যেতে পারে।

রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়বে না

ডিজিটাল পরিষেবা চালু হলেও সরকারি ফি ও নির্ধারিত চার্জ অনলাইন মাধ্যমেই জমা দিতে হবে। ফলে রাজ্য সরকারগুলির রাজস্ব সংগ্রহে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে।বরং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা আরও উন্নত হতে পারে।

এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রস্তাব এখনও আলোচনা ও পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে। কেন্দ্র সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি।ফলে ৫০ বছরের বৈধতা আদৌ কার্যকর হবে কি না, কিংবা কবে থেকে চালু হতে পারে—তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করতে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে কেন্দ্র সরকার। আলোচনাধীন প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ গাড়িচালকদের লাইসেন্সের বৈধতা ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করা হতে পারে। পাশাপাশি পরিবহন সংক্রান্ত একাধিক পরিষেবাকে সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার পরিকল্পনাও চলছে।

 

Leave a comment