রথযাত্রা মানেই বাঙালির কাছে দুর্গাপুজোর দিন গোনার সূচনা। রাজ্যের নানা প্রান্তে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে খুঁটিপুজো। আর তার মধ্যেই ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দেবীর আগমন ও গমনের বাহন নিয়ে। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তমী ও বিজয়া দশমী যে বার পড়ে, তার উপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হয় দেবীর আগমন ও গমনের বাহন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রতীকী ব্যাখ্যার অংশ, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
ঘোটকে আগমন, কী বলছে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা?
জ্যোতিষী হিতেন্দ্র কুমারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সপ্তমী পড়েছে শনিবার। প্রচলিত নিয়ম অনুসারে, সেই কারণে দেবীর আগমন হবে ঘোটকে বা ঘোড়ায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোটককে সামাজিক অস্থিরতা, মতবিরোধ কিংবা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তবে এটি ভবিষ্যতের কোনও নিশ্চিত ঘটনা নয়, বরং ধর্মীয় প্রতীকী ব্যাখ্যা মাত্র।
নৌকায় গমন, শস্যবৃদ্ধির বার্তা নাকি অতিবৃষ্টির ইঙ্গিত?
২০২৬ সালে বিজয়া দশমী পড়েছে বুধবার। সেই হিসেবে দেবীর গমন হবে নৌকায়। জ্যোতিষশাস্ত্রে নৌকা সাধারণত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, কৃষিতে উন্নতি, জলসম্পদের প্রাচুর্য এবং ভালো শস্য উৎপাদনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও একই সঙ্গে কোথাও কোথাও অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতার সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবেও নৌকার উল্লেখ রয়েছে।
আগমন ও গমন ভিন্ন বাহনে হওয়ার তাৎপর্য
জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, দেবীর আগমন ও গমন যদি একই বাহনে হয়, তাহলে সেটিকে তুলনামূলকভাবে অশুভ প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কারণ একই প্রতীকের প্রভাব সারা বছর ধরে বজায় থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। ২০২৬ সালে আগমন ও গমন ভিন্ন বাহনে হওয়ায় সেই আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছেন জ্যোতিষীরা। তবে এটিও সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে প্রচলিত ব্যাখ্যা।
দেবীর চার বাহনের প্রতীকী অর্থ
প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেবীর প্রতিটি বাহনের আলাদা প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। গজ বা হাতি শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভালো ফসলের প্রতীক। ঘোটক বা ঘোড়া অস্থিরতা ও সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করে। নৌকা ভালো বৃষ্টি, কৃষিতে সাফল্য এবং জলসম্পদের প্রতীক হলেও অতিবৃষ্টির সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে দোলা বা পালকিকে মহামারী বা মড়কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলি সম্পূর্ণরূপে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত ব্যাখ্যা, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণ
২০২৬ সালের মহালয়া পড়ছে ১০ অক্টোবর (শনিবার)। পঞ্চমী ১৫ অক্টোবর, ষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর, সপ্তমী ১৭ অক্টোবর, অষ্টমী ১৮ অক্টোবর, মহানবমী ২০ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর (বুধবার) পালিত হবে। ইতিমধ্যেই পুজো উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, আর বাঙালিও অপেক্ষায় দিন গুনতে শুরু করেছে।
রথযাত্রার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। ২০২৬ সালে দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হবে নৌকায়। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত ব্যাখ্যায় এই দুই বাহনের রয়েছে ভিন্ন প্রতীকী অর্থ। কী বলছে শাস্ত্র, আর কবে পড়ছে মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী—জানুন বিস্তারিত।













