দুর্গাপুজো মানেই রাতভর প্যান্ডেল হপিং, এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা আর উৎসবের আনন্দে সময়ের হিসাব ভুলে যাওয়া। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফেরার গাড়ি পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে অনেকেরই। এবার সেই সমস্যা কিছুটা কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুজোর ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত রাতভর বাস পরিষেবা চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠী থেকে নবমী রাতভর বাস
দুর্গাপুজোর চার দিনে সন্ধ্যার পর থেকেই রাস্তায় মানুষের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত সারারাত বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অর্থাৎ, গভীর রাত পর্যন্ত ঠাকুর দেখে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও গণপরিবহণ নিয়ে আগের মতো অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে না যাত্রীদের।
গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাড়তে পারে বাসের সংখ্যা
শুধু রাতের পরিষেবা চালু রাখাই নয়, যাত্রীচাপ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত বাস নামানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অলবেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এবং যাত্রীদের চাহিদা বুঝে প্রয়োজনে বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।ফলে যে রুটগুলিতে পুজোর সময় মানুষের চাপ বেশি থাকবে, সেখানে অতিরিক্ত পরিষেবা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাতের যাত্রীচাপের দিকেও থাকবে নজর
পুজোর সময় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত যত বাড়ে, ততই বাড়তে থাকে মণ্ডপমুখী মানুষের ভিড়। তাই রাতের দিকে কোন রুটে কতটা চাহিদা তৈরি হচ্ছে, তার উপরও নজর রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবা সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করা হবে, যাতে রাতের শেষে বাড়ি ফেরার সময় অতিরিক্ত সমস্যায় পড়তে না হয়।
চালক-কর্মীদের নিরাপত্তাতেও জোর
রাতভর বাস চালানোর ক্ষেত্রে শুধু যাত্রীদের সুবিধাই নয়, চালক ও অন্যান্য কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পরিষেবা চালু থাকায় তাঁদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।বাস সংগঠনের পক্ষ থেকে রাতের পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরোলেও বাড়ি ফেরার সুবিধা
পুজোর রাতে অনেকেই পরিবার নিয়ে বের হন, আবার অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাত পর্যন্ত প্যান্ডেল ঘুরে দেখেন। রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ি ফেরার গাড়ি নিয়ে চিন্তা তৈরি হয়। বিশেষ বাস পরিষেবা চালু থাকলে তাঁদের জন্য যাতায়াত অনেকটাই সহজ হতে পারে।বিশেষ করে যাঁরা রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা বাড়তি স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দুর্গাপুজোর রাতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে যাতে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে সারারাত বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি বাস সংগঠন। যাত্রীচাপ বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বাসও নামানো হতে পারে।








