East Bardhaman News: কাটোয়ার এই পুরনো বাড়িতেই এসেছিলেন নেতাজি! আজও যত্নে রাখা তাঁর চেয়ার-টেবিল, রয়েছে হাতে লেখা চিঠিও

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার বারোয়ারিতলার পুরনো বাড়িতে এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আজও সংরক্ষিত তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল ও হাতে লেখা চিঠি। জানুন ইতিহাস।

কাটোয়া শহরের ব্যস্ত জনজীবনের মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন একটি বাড়ি, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। বাইরে থেকে সাধারণ পুরনো বাড়ি মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পদার্পণের স্মৃতি। আজও পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত যত্নে ধরে রেখেছেন সেই সময়ের নানা স্মারক।

বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল ছিল এই বাড়ি

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের বারোয়ারিতলা এলাকায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক বাড়িটির মালিক ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দেশপ্রেমী ডক্টর গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, যিনি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘গুণীবাবু’ নামে পরিচিত ছিলেন।১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে আইন অমান্য আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে ভারত ছাড়ো আন্দোলন—স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে কাটোয়া মহকুমায় সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। সেই সময় তাঁর বাড়িটি হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবীদের অন্যতম যোগাযোগস্থল।

যে সিঁড়ি দিয়ে উঠেছিলেন নেতাজি

বাড়িটির দোতলায় ছিল গুণীবাবুর বৈঠকখানা। সেখানে যাওয়ার জন্য নিচতলা থেকে একটি লোহার ঘোরানো সিঁড়ি রয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই সিঁড়ি দিয়েই একসময় দোতলার বৈঠকখানায় উঠেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।আজও সেই সিঁড়ি এবং বৈঠকখানা অতীতের সেই অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করে চলেছে। ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে তাই জায়গাটির গুরুত্ব শুধুমাত্র একটি পুরনো বাড়ি হিসেবে নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে।

আজও সংরক্ষিত নেতাজির চেয়ার-টেবিল

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, যে বৈঠকখানায় নেতাজি বসেছিলেন বলে পরিবারের দাবি, সেখানে তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার এবং ছোট টেবিল এখনও যত্ন করে রাখা হয়েছে।বংশপরম্পরায় পরিবারের সদস্যরা এই স্মারকগুলিকে সংরক্ষণ করে আসছেন। তাঁদের কাছে এগুলি শুধুমাত্র পুরনো আসবাব নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অমূল্য স্মৃতি।

রয়েছে নেতাজির হাতে লেখা চিঠিও

বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে একটি বিশেষ স্মারক। পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি, যেখানে তাঁর স্বাক্ষরও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এই চিঠি এবং অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন আজও পরিবারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এগুলিই প্রমাণ করে, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই বাড়ির সঙ্গে জাতীয় আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পুরনো বাড়ি

সময়ের সঙ্গে কাটোয়া শহরের চেহারা অনেকটাই বদলেছে। চারপাশে তৈরি হয়েছে নতুন বাড়ি, বেড়েছে ব্যস্ততা। কিন্তু বারোয়ারিতলার এই পুরনো বাড়িটি এখনও নিজের মধ্যে ধরে রেখেছে অতীতের স্মৃতি।লোহার ঘোরানো সিঁড়ি, পুরনো বৈঠকখানা, নেতাজির ব্যবহৃত সামগ্রী এবং হাতে লেখা চিঠি—সব মিলিয়ে বাড়িটি যেন স্বাধীনতা সংগ্রামের এক জীবন্ত স্মারক।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের বারোয়ারিতলার একটি পুরনো বাড়ি আজও বহন করছে স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি। দেশপ্রেমী চিকিৎসক ডক্টর গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে একসময় এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সেই বৈঠকখানা, নেতাজির ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল এবং তাঁর হাতে লেখা চিঠি এখনও পরিবারের কাছে সংরক্ষিত।

Leave a comment