স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু উদযাপনের নয়, তা জানারও। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বারাসাতে আয়োজন করা হল বিশেষ কর্মসূচি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ম্যাজিস্ট্রেটখানা থেকে শুরু হওয়া তিরঙ্গা যাত্রা পৌঁছল হেস্টিংস হাউসে। সেখানে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হল স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশভাগের এক যন্ত্রণাময় অধ্যায়।
তিরঙ্গার রঙে সাজল বারাসাত
স্বাধীনতা দিবসের আবহে বৃহস্পতিবার দেশাত্মবোধের আবেগে মেতে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসাত। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশাত্মবোধক গান গাইতে গাইতে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ধরে এগিয়ে যান তিরঙ্গা যাত্রার অংশগ্রহণকারীরা।এই বিশেষ যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, স্কুলের ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়াপ্রেমী, সাংস্কৃতিক দলের সদস্য এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা।
বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত স্থান থেকে যাত্রা
বারাসাত সংলগ্ন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ম্যাজিস্ট্রেটখানা এবং নেতাজি মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয় তিরঙ্গা যাত্রা। সেখান থেকে জাতীয় পতাকা হাতে অংশগ্রহণকারীরা এগিয়ে যান ঐতিহাসিক হেস্টিংস হাউসের দিকে।ঐতিহাসিক দুই স্থানকে একটি কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।
হেস্টিংস হাউসে দেশভাগের ইতিহাস
তিরঙ্গা যাত্রার শেষে হেরিটেজের মর্যাদা পাওয়া হেস্টিংস হাউসে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রদর্শনীর। সেখানে দেশভাগের বিভীষিকাময় সময়ের নানা ঘটনা ও স্মৃতি তুলে ধরা হয়।দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি এবং ঘরছাড়া মানুষের যন্ত্রণার বিভিন্ন দিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে সামনে আনা হয়। ফলে স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি সেই সময়ের কঠিন বাস্তবতাও জানার সুযোগ পায় নতুন প্রজন্ম।
পড়ুয়াদের দেখানো হল তথ্যচিত্র
শুধু প্রদর্শনী নয়, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দেশভাগের বেদনাদায়ক অধ্যায়ের উপর নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।পর্দায় ইতিহাসের সেই কঠিন সময়ের ঘটনাগুলি দেখে পড়ুয়াদের মধ্যে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন ও আগ্রহ। বইয়ের পাতায় পড়া ইতিহাসকে দৃশ্যের মাধ্যমে জানার সুযোগ তাঁদের কাছে হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।
ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগসূত্র
জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ছিল পড়ুয়াদের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তাই বারাসাতের এই আয়োজন হয়ে উঠল শুধু তিরঙ্গা যাত্রা নয়—ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও একটি প্রয়াস।
স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশাত্মবোধ ও ইতিহাসের মেলবন্ধনে সাজল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত। ঐতিহাসিক হেস্টিংস হাউসকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হল তিরঙ্গা যাত্রা ও বিশেষ প্রদর্শনী। দেশভাগের সময়ের বাস্তুচ্যুতি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং সেই সময়ের স্মৃতি তথ্যচিত্র ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে জানল স্কুলপড়ুয়ারা।












