পাহাড়ে বেড়াতে গেলেই কি দার্জিলিংয়ের ভিড় ঠেলতে হবে? একেবারেই নয়। উত্তরবঙ্গের বুকেই রয়েছে এমন কিছু ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক কম, অথচ প্রকৃতির সৌন্দর্যে কোনও খামতি নেই। রংরুন, বুংকুলুং ও মহল দিরাম—এই তিন ঠিকানায় মিলবে পাহাড়ি রাস্তা, চা-বাগান, মেঘের আনাগোনা এবং গ্রামীণ জীবনের একেবারে অন্যরকম স্বাদ।
রংরুন: প্রথম দিনেই পাহাড়ের নির্জন সৌন্দর্য
NJP বা বাগডোগরা পৌঁছে গাড়ি নিয়ে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে পারেন রংরুন। কার্শিয়াং ও জোরবাংলোর পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এই শান্ত গ্রামে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা সময় হাতে রাখা ভালো। দুপুরের মধ্যে হোমস্টেতে পৌঁছে বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে বেরিয়ে পড়তে পারেন গ্রামের আশপাশে।চা-বাগান, সবুজ পাহাড়ি উপত্যকা এবং আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে উপভোগ করুন প্রকৃতির নীরবতা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরে পাহাড়ের গায়ে দার্জিলিং শহরের আলোও চোখে পড়তে পারে। প্রথম রাতটি রংরুনেই কাটানো যায়।
বুংকুলুং: পাহাড়ি গ্রামের স্বাভাবিক জীবন দেখুন
পরের দিন সকালে রংরুনের সৌন্দর্য উপভোগ করে রওনা দিন বুংকুলুংয়ের পথে। এখানে বড় কোনও পর্যটনকেন্দ্রের পিছনে ছোটার বদলে স্থানীয় গ্রাম, কৃষিজমি এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশকে কাছ থেকে দেখাই হতে পারে ভ্রমণের মূল আকর্ষণ।সময় থাকলে নদীর ধারে বসে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। স্থানীয় হোমস্টেতে দুপুরের খাবার সেরে বিকেলে গ্রামের পথে হাঁটাহাঁটি করেও বেশ ভালো সময় কাটবে। পাহাড়ি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ এই সফরকে আরও অন্যরকম করে তুলবে।
মহল দিরাম: মেঘে ঢাকা পাহাড়ে শেষ দিনের ঠিকানা
শনিবার রাতে বুংকুলুংয়ে থেকে রবিবার সকালে রওনা দিতে পারেন মহল ও মহল দিরামের দিকে। পথে দেখা মিলবে পাহাড়ি রাস্তা, চা-বাগান এবং সবুজ জঙ্গলের। গন্তব্যে পৌঁছে চারপাশে হেঁটে ঘুরুন, মেঘের আনাগোনা উপভোগ করুন।আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরের পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্যও নজরে আসতে পারে। দুপুরের পর এখান থেকে গাড়ি নিয়ে NJP বা বাগডোগরার দিকে ফেরার পরিকল্পনা করা যায়।
ছোট্ট ট্যুর প্ল্যান এক নজরে
শুক্রবার: NJP/বাগডোগরা → রংরুন → হোমস্টে → গ্রামের পথে ঘোরাঘুরি
শনিবার: রংরুন → বুংকুলুং → গ্রাম ও নদীর ধারে সময় কাটানো → বুংকুলুংয়ে রাত্রিবাস
রবিবার: বুংকুলুং → মহল/মহল দিরাম → দুপুরের পর NJP/বাগডোগরার পথে ফেরা
যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন
অফবিট পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার আগে রাস্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি। বর্ষাকালে পাহাড়ি রাস্তায় হঠাৎ সমস্যা তৈরি হতে পারে, তাই হাতে অতিরিক্ত সময় রাখুন এবং সম্ভব হলে আগে থেকেই হোমস্টে বুক করে নিন।ছোট পাহাড়ি রাস্তায় রাতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত জায়গা, চা-বাগান কিংবা জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করবেন না।
দার্জিলিং-সিকিমের চেনা ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি পাহাড়ে কয়েকটা দিন কাটাতে চান? উত্তরবঙ্গের রংরুন, বুংকুলুং এবং মহল দিরাম হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। চা-বাগান, পাহাড়ি গ্রাম, মেঘে ঢাকা উপত্যকা, নদী আর নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে তৈরি করা যায় সুন্দর ২-৩ দিনের ট্যুর প্ল্যান।













