উত্তর প্রদেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। পূর্বাঞ্চলের একাধিক জেলায় তীব্র গরম ও লু অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় ধুলিঝড় ও হালকা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিন পূর্বাঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব উত্তর প্রদেশের বহু জেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দা রাজ্যের সর্বোচ্চ উষ্ণ জেলা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া প্রয়াগরাজ, বারাণসী, গাজীপুর, জৌনপুর এবং আশপাশের জেলাগুলিতেও তীব্র গরমের প্রভাব দেখা গেছে।
বিভাগ ২১ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত কিছু এলাকায় তীব্র থেকে অতি-তীব্র লু বয়ে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের সময় ঘরের বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ লুর প্রভাব স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কিছু এলাকায় গত কয়েক দিনে ধুলিঝড় ও হালকা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২২ জুন থেকে ২৫ জুনের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে কিছু স্থানে মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।

পশ্চিম উত্তর প্রদেশে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, তবে সেখানে পূর্বাঞ্চলের মতো তীব্র লু পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ট্রফ রেখা এবং উত্তর-পশ্চিম উত্তর প্রদেশের ওপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তীয় সঞ্চালন বর্তমান আবহাওয়াকে প্রভাবিত করছে। এছাড়া পূর্ব উত্তর প্রদেশ থেকে উপকূলীয় আন্ধ্র প্রদেশ পর্যন্ত আরেকটি ট্রফ রেখাও সক্রিয় রয়েছে।
এই আবহাওয়াগত ব্যবস্থাগুলির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে আবহাওয়ার প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে। কোথাও গরম হাওয়া বইছে, আবার কোথাও মেঘ ও হালকা বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ রেকর্ড করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা গরমের পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। সবজি ও ফলের ফসলে হালকা সেচ দেওয়া, জমিতে আর্দ্রতা বজায় রাখতে মালচিং ব্যবহার করা এবং নতুন গাছকে তীব্র রোদ থেকে রক্ষা করতে শেড নেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পশুপালকদের পশুর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, ২৫ জুনের পর রাজ্যের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের কার্যকলাপ বাড়তে পারে, যার ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।












