বাঙালির রান্নাঘরে ছোট মাছের জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। পুঁটি মাছের ঝোল হোক কিংবা মৌরলা মাছের চচ্চড়ি—পাতে পড়লে জমে যায় খাওয়াদাওয়া। কিন্তু একসঙ্গে অনেক মাছ পরিষ্কার করার সময় আঁশ ছাড়ানোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রতিটি মাছ আলাদা করে পরিষ্কার করার বদলে কয়েকটি ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগালে সময় ও পরিশ্রম কিছুটা বাঁচতে পারে।

ভিনিগার ও জলের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন
মাছের আঁশ পরিষ্কার করার আগে অল্প ভিনিগার মেশানো জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পদ্ধতি প্রচলিত। এরপর মাছের গায়ে লেগে থাকা আঁশ আলতোভাবে ঘষে ছাড়িয়ে নেওয়া যায়। তবে সব ধরনের মাছের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সমান কার্যকর নাও হতে পারে। মাছ পরিষ্কারের পর অবশ্যই পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
নুন-লেবুর জলে ভিজিয়ে রাখুন মাছ
ছোট মাছ পরিষ্কারের আগে নুন ও লেবুর রস মেশানো জলে অল্প সময় ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে মাছের গায়ে লেগে থাকা ময়লা সরাতে সুবিধা হতে পারে। এরপর আঁশের দিক বুঝে উপযুক্ত সরঞ্জাম দিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করুন। মাছ দীর্ঘক্ষণ এই মিশ্রণে ফেলে রাখবেন না।
স্টিলের চামচ দিয়েই ছাড়াতে পারেন আঁশ
বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর বিশেষ সরঞ্জাম না থাকলে স্টিলের চামচ কাজে লাগতে পারে। মাছের লেজের দিক ধরে লেজ থেকে মাথার দিকে আলতোভাবে ঘষুন। এতে আঁশ উঠে আসতে পারে। তবে হাত যাতে পিছলে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ধারালো কাচের গ্লাস বা ভাঙা ঝিনুকের খোল ব্যবহার করবেন না—এতে হাত কেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পুঁটি মাছ পরিষ্কারে কাজে লাগতে পারে প্লাস্টিকের বস্তা
একসঙ্গে অনেক পুঁটি মাছ পরিষ্কার করতে হলে পরিষ্কার ও খাবারের সংস্পর্শে ব্যবহারের উপযোগী প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। বস্তার একদিকে মাছ রেখে অন্য অংশ দিয়ে আলতোভাবে ঘষুন। এরপর মাছগুলো ঝাঁঝরিতে নিয়ে প্রবাহিত পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। তবে অপরিষ্কার, দুর্গন্ধযুক্ত বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা বস্তা ব্যবহার করবেন না।
ফলুই মাছের আঁশ ছাড়াতে সতর্ক থাকুন
ফলুই মাছের মুখের অংশ শক্ত হওয়ায় কোনও কোনও ঘরোয়া পদ্ধতিতে সেটি দিয়ে অন্য মাছের আঁশ ঘষে তোলার কথা বলা হয়। কিন্তু এভাবে কাজ করলে হাত বা আঙুলে আঘাত লাগতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে মাছ পরিষ্কারের উপযুক্ত সরঞ্জাম বা স্টিলের চামচ ব্যবহার করাই ভালো।
মৌরলা মাছ পরিষ্কারে ছিদ্রযুক্ত ঝুড়ি
মৌরলার মতো ছোট মাছ পরিষ্কারের জন্য পরিষ্কার, মজবুত ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের ঝুড়ি ব্যবহার করতে পারেন। ঝুড়ির মধ্যে মাছ রেখে আলতোভাবে ঘষুন। নিচে একটি পরিষ্কার পাত্র রাখলে উঠে আসা আঁশ জমা হতে পারে। শেষে মাছগুলো আলাদা করে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। ঝুড়ির ছিদ্রে মাছ আটকে যাচ্ছে কি না, তা-ও খেয়াল রাখুন।
. চাঁদা মাছের জন্য কাঁচি ব্যবহার
চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়াতে কাঁচির ভোঁতা দিক দিয়ে আলতোভাবে ঘষে দেখতে পারেন। পাখনা বা লেজ ছাঁটার প্রয়োজন হলে পরিষ্কার রান্নাঘরের কাঁচি ব্যবহার করুন। ধারালো দিক দিয়ে আঁশ ঘষবেন না। মাছের পেট পরিষ্কার করার সময়ও সতর্ক থাকুন, যাতে হাত কেটে না যায়।

চাল ধোয়া জলে কাঁচকি মাছ ভিজিয়ে রাখুন
কাঁচকি মাছ পরিষ্কারের আগে চাল ধোয়া জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে। এরপর পরিষ্কার পানিতে কয়েকবার ধুয়ে নিন। এতে মাছের গায়ে লেগে থাকা ময়লা সরাতে সুবিধা হতে পারে। তবে চাল ধোয়া জল মাছের সব আঁশ বা গন্ধ দূর করে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ট্যাংরা মাছ পরিষ্কারে সাবধানতা জরুরি
ট্যাংরা মাছের কাঁটা ও পাখনা থেকে আঘাত লাগতে পারে। তাই খালি হাতে জোরে ঘষাঘষি না করে মাছ পরিষ্কারের সময় সতর্ক থাকুন। ছাই বা মাটির মতো অপরিষ্কার উপাদান দিয়ে মাছ ঘষার বদলে পরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহার করুন। মাছের গায়ের আবরণ পরিষ্কার করার পর নিরাপদ পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
মাছ পরিষ্কারের সময় যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন
মাছ ধরার আগে ও পরে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।ভাঙা কাচ, ধারালো গ্লাস বা ঝিনুকের খোল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।মাছ পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম অন্য খাবার থেকে আলাদা রাখুন।আঁশ ও নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কারের পর রান্নাঘরের জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে নিন।মাছ পরিষ্কারের শেষে পানীয় জলের উপযোগী পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন।

ছোট মাছ খেতে যতই সুস্বাদু হোক, রান্নার আগে আঁশ পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়। বিশেষ করে পুঁটি, মৌরলা, ফলুই ও চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়াতে সময় লাগে বেশ খানিকটা। তবে বাড়িতে থাকা স্টিলের চামচ, ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের ঝুড়ি কিংবা পরিষ্কার প্লাস্টিকের বস্তার মতো কিছু জিনিস কাজে লাগিয়ে এই কাজ সহজ করা যেতে পারে। কোন মাছের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।








