Nana Patekar: ‘নাটসম্রাট’-এর আপ্পাসাহেব চরিত্রে অভিনয় করতে কেন ভয় পেতেন নানা পাটেকর? ফাঁস করেছিলেন মনের কথা

‘নটসম্রাট’-এর আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকর চরিত্রে অভিনয়ের মানসিক চাপ নিয়ে কী বলেছিলেন নানা পাটেকর? জানুন মঞ্চ ও সিনেমার অভিনয়ের পার্থক্য এবং তাঁর অভিজ্ঞতার কথা।

একজন অভিনেতার কাছে কোনও চরিত্র কখনও শুধুই অভিনয় নয়, হয়ে ওঠে মানসিক ও শারীরিক সহনশীলতার কঠিন পরীক্ষা। নানা পাটেকরের কাছে ‘নটসম্রাট’-এর আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকর ছিল তেমনই একটি চরিত্র। এই ভূমিকায় অভিনয়ের তীব্রতা এবং মঞ্চে একটানা অভিনয় করার চাপ নিয়ে অকপটে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন অভিনেতা। তাঁর সেই মন্তব্যই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

‘নটসম্রাট’-এর আপ্পাসাহেব চরিত্রে ছিল প্রবল মানসিক চাপ

মারাঠি চলচ্চিত্র ‘নটসম্রাট’-এ আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকরের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন নানা পাটেকর। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়। একসময়ের জনপ্রিয় মঞ্চাভিনেতার জীবনের উত্থান-পতন, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা—সব মিলিয়ে চরিত্রটি ছিল আবেগে পরিপূর্ণ।তবে এই চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানসিক চাপের কথাও সামনে এনেছিলেন নানা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘নটসম্রাট’-এর মতো নাটক মঞ্চে পরিবেশন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, মঞ্চে অভিনয়ের সময় সিনেমার মতো বারবার থামার বা নতুন করে দৃশ্য ধারণ করার সুযোগ থাকে না।

কেন মঞ্চে অভিনয় করতে চাইতেন না নানা?

এক অনুষ্ঠানে নানা জানিয়েছিলেন, ‘নটসম্রাট’ নাটকটি মঞ্চে অভিনয় করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হতো। তাঁর কথায়, এই নাটক মঞ্চে করতে হলে ১৫ থেকে ২৫ বার অভিনয়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হতে পারত—এমন আশঙ্কা ছিল তাঁর। এই মন্তব্যের মাধ্যমে নাটকটির আবেগঘন চরিত্র এবং অভিনয়ের মানসিক চাপ কতটা গভীর, তা বোঝাতে চেয়েছিলেন অভিনেতা।নানা আরও ব্যাখ্যা করেছিলেন, সিনেমায় কোনও দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন পরিচালক ‘কাট’ বললে অভিনেতা কিছুটা বিরতি নিতে পারেন। কিন্তু মঞ্চে দর্শকদের সামনে অভিনয়ের সময় সেই সুযোগ থাকে না। চরিত্রের আবেগ ধরে রেখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভিনয় চালিয়ে যেতে হয়। সেই কারণেই তিনি প্রযোজকদের জানিয়েছিলেন, এই নাটকে মঞ্চাভিনয়ের পরিবর্তে সিনেমায় অভিনয় করতেই তিনি আগ্রহী।

শ্রীরাম লাগু থেকে চন্দ্রকান্ত গোখলে—এই চরিত্রের ঐতিহ্য

‘নটসম্রাট’ মারাঠি নাট্যজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। নানা পাটেকরের আগে ডঃ শ্রীরাম লাগু, দত্ত ভট্ট এবং চন্দ্রকান্ত গোখলের মতো বিশিষ্ট অভিনেতারাও এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকরের মতো জটিল চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষেত্রে ঐতিহ্য ও প্রত্যাশা—দুইয়ের চাপই ছিল।নানার অভিনয়ে চরিত্রটির যন্ত্রণা, আত্মসম্মান, অসহায়তা এবং আবেগের বিভিন্ন স্তর ফুটে উঠেছিল। তাঁর অভিনীত সংস্করণটি পর্দায় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

বিক্রম গোখলের অভিনয় নিয়েও অকপট ছিলেন নানা

একই অনুষ্ঠানে প্রয়াত অভিনেতা বিক্রম গোখলের অভিনয়ের প্রশংসাও করেছিলেন নানা পাটেকর। সহ-অভিনেতার দক্ষতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বিক্রমের অভিনয় তাঁর নিজের অভিনয়ের তুলনায় কয়েক গুণ ভালো ছিল। সহকর্মীর প্রতিভা নিয়ে এমন অকপট মন্তব্য নানার শিল্পীসত্তার আরেকটি দিক তুলে ধরে‘নটসম্রাট’-এ নানা পাটেকরের পাশাপাশি বিক্রম গোখলে, মেধা মাঞ্জরেকর, মৃন্ময়ী দেশপান্ডে এবং সুনীল বারভের মতো অভিনেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। ছবিটি মারাঠি সিনেমার দর্শকদের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।

বলিষ্ঠ অভিনয়, গভীর কণ্ঠস্বর এবং বাস্তবধর্মী চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার জন্য পরিচিত নানা পাটেকর। তাঁর অভিনীত মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’ দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকরকে ফুটিয়ে তোলার নেপথ্যে ছিল প্রবল মানসিক চাপের কথা। এক অনুষ্ঠানে নানা জানিয়েছিলেন, মঞ্চে এই চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর কাছে কতটা কঠিন মনে হয়েছিল এবং কেন তিনি নাটকের বদলে সিনেমায় অভিনয় করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন।

Leave a comment