পর্দায় সেনা অফিসারের চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় আজও দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবিতে মেজর প্রতাপ চৌহানের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় ছিল উল্লেখযোগ্য। এই চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য তিনি কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কার্গিল যুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়েও নানা দাবি সামনে এসেছে। কিন্তু পর্দার সেনা অফিসার আর বাস্তবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
‘প্রহার’ ছবির জন্য কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ
১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবিতে নানা পাটেকর অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছিলেন। ছবিতে তিনি মেজর প্রতাপ চৌহানের চরিত্রে অভিনয় করেন। একজন সেনা অফিসারের শৃঙ্খলা, আচরণ এবং কঠোর ব্যক্তিত্ব পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই প্রস্তুতির মাধ্যমে চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ তৈরি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ে বাস্তবতার ছাপ ফেলেছিল বলেই মনে করেন অনেক দর্শক।
টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘প্রহার’ ছবির জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে নানা পাটেকরের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাঁর টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।তবে টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত থাকা, সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং নিয়মিত সেনাসদস্য হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করা এক বিষয় নয়। তাই অভিনেতার সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর নির্দিষ্ট ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে লেখা প্রয়োজন।
কার্গিল যুদ্ধের সময় কী করেছিলেন নানা পাটেকর?
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সঙ্গে নানা পাটেকরের যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। পরে সেনাদের সঙ্গে থাকার এবং নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় সময় কাটানোর কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তবে তিনি কার্গিলের সম্মুখসমরে সরাসরি লড়াই করেছিলেন বা কুইক রিঅ্যাকশন টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন—এমন নির্দিষ্ট দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই না করে তা নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।
‘প্রহার’-এর স্মৃতি নিয়ে কী বলেছিলেন জেনারেল ভি কে সিং?
প্রতিবেদনে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল ভি কে সিংয়ের একটি শোকবার্তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘প্রহার’ ছবির শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকরের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।একটি সেনা-প্রেক্ষাপটের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনেতার প্রস্তুতি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই প্রসঙ্গ তা মনে করিয়ে দেয়। তবে শোকবার্তার নির্দিষ্ট বক্তব্য ও তার সূত্র প্রকাশের আগে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
পর্দার চরিত্র থেকে বাস্তব জীবনের সামরিক অভিজ্ঞতা
নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনে ‘প্রহার’ একটি উল্লেখযোগ্য ছবি। সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ের প্রস্তুতিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁকে কার্গিল যুদ্ধে সরাসরি লড়াই করা সৈনিক হিসেবে বর্ণনা করার আগে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
নানা পাটেকরকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ১৯৯১ সালের ছবি ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’-এর জন্য নেওয়া কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন। তবে কার্গিল যুদ্ধে তিনি সরাসরি লড়াই করেছিলেন কি না, সেই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।









