জলাশয়ের জলে ভেসে থাকা কচুরিপানা সাধারণত নোংরা-আবর্জনা হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু সেই ‘ফেলনা’ জিনিসকেই কাজে লাগিয়ে এবার নতুন রোজগারের পথ খুলে ফেলেছেন গ্রামের মহিলারা। হাবড়ার কামদেবকাঠিতে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে নজরকাড়া পরিবেশবান্ধব রাখি। শুধু উৎসবের সামগ্রী নয়, এই উদ্যোগ জলাশয় পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মহিলাদের হাতে তুলে দিচ্ছে স্বনির্ভরতার সুযোগ।
কচুরিপানা থেকেই তৈরি হচ্ছে রাখি
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার কামদেবকাঠিতে স্বচ্ছতা পুকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই অভিনব কাজ। সংগৃহীত কচুরিপানা প্রথমে জলাশয় থেকে তুলে আনা হয়। এরপর রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে কয়েকদিন বস্তাবন্দি করে রাখা হয়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় কচুরিপানা থেকে আঁশ আলাদা করে তৈরি করা হয় কাগজ।সেই কাগজ দিয়েই তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের আকর্ষণীয় রাখি। ফলে যে কচুরিপানা জলাশয়ের পরিবেশের জন্য সমস্যা তৈরি করত, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে নতুন পণ্যের কাঁচামাল।
শুধু রাখি নয়, তৈরি হচ্ছে নানা সামগ্রী
চুরিপানার তৈরি কাগজের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন শস্য, বীজ, চুমকি এবং অন্যান্য উপকরণ। মহিলাদের হাতের কারুকাজে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন নকশার রাখি।তবে কাজটি শুধু রাখি তৈরিতেই সীমাবদ্ধ নেই। কচুরিপানা ব্যবহার করে ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু জিনিসও তৈরি করছেন তাঁরা। অর্থাৎ একটি বর্জ্য উপাদানকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ হস্তশিল্পের ব্যবসার মডেল।
২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দামের রাখি
কচুরিপানার তৈরি পরিবেশবান্ধব রাখিগুলির দাম রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। প্রায় ২০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামের রাখি তৈরি করছেন মহিলারা।রাখির মরসুম সামনে রেখে এখন কামদেবকাঠির প্রায় ১৫ জন মহিলা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁদের তৈরি রাখির জন্য বেশ কিছু অর্ডারও এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
জলাশয় পরিষ্কার, মহিলাদেরও কর্মসংস্থান
এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হল, এর মাধ্যমে একইসঙ্গে পরিবেশ ও কর্মসংস্থান—দুই সমস্যারই সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। জলাশয় থেকে কচুরিপানা তুলে নেওয়ায় পুকুর-ডোবার জলও তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকছে। অন্যদিকে, সেই কচুরিপানাই প্রক্রিয়াজাত করে পণ্য তৈরি করে আয় করছেন গ্রামের মহিলারা।উদ্যোক্তা কৌশিক মণ্ডলের দাবি, এই কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গ্রামবাংলায় এমন কাজ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুকুর-ডোবার কচুরিপানাকে আর ফেলনা হিসেবে দেখছেন না উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার কামদেবকাঠির মহিলারা। বিশেষ প্রক্রিয়ায় কচুরিপানা থেকে কাগজ তৈরি করে তা দিয়ে বানানো হচ্ছে পরিবেশবান্ধব রাখি-সহ নানা হস্তশিল্প। প্রায় ১৫ জন মহিলা এই কাজের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তাঁদের তৈরি রাখির জন্য অর্ডারও আসতে শুরু করেছে।












