Murshidabad News: দিনের পর দিন জলে ভেসেই কাটত জীবন, জল থেকে উঠলেই অসহ্য যন্ত্রণা! ‘জলমানব’ ইকবালের চিকিৎসায় এবার মুম্বইয়ের বিশেষজ্ঞ দল

মুর্শিদাবাদের ১৬ বছরের ইকবাল দিনের পর দিন জলে ভেসে থাকতেন। ‘জলমানব’ নামে পরিচিত সেই কিশোরের চিকিৎসা এখন মুম্বইয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে।

পুকুরই যেন ছিল তাঁর ঘর। দিনের পর দিন জলে ভেসে থাকা, এমনকী সেখানেই খাওয়া-দাওয়া—এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনই তাঁকে এলাকায় ‘জলমানব’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ১৬ বছরের ইকবালের সেই কঠিন জীবনে এবার আশার আলো। কলকাতা থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁর চিকিৎসা।

পাঁচ বছর ধরে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই

হাসপাতালের চিকিৎসক আশুতোষ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে আসছিল ইকবাল। সেই যন্ত্রণা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই দিনের পর দিন জলে ভেসে থাকার পথ বেছে নিয়েছিল সে। ফলে ধীরে ধীরে তার এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনই এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠে।চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইকবালের শারীরিক অবস্থার দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। টানা কয়েকদিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসা চলেছে এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে সে বলেও জানা গিয়েছে।

এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া

ইকবালকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখছে।রিলায়েন্স গোষ্ঠীর তরফে জানানো হয়েছে, সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির নির্দেশেই ইকবালের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মিত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

মায়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে পরিবারের সদস্যরাও

ইকবালের সঙ্গে মুম্বইয়ে রয়েছেন তাঁর মা কামিরণ বিবি, জামাইবাবু এবং রানিনগরের সমাজকর্মী রুবেল শেখ। হাসপাতাল থেকে ছেলের চিকিৎসার খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর মা।কামিরণ বিবি জানিয়েছেন, ছেলের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের ১৪ তলায়। পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৯ তলায়। ফলে সবসময় ছেলের কাছে থাকতে পারছেন না তাঁরা। তবে চিকিৎসকেরা নিয়মিত পরীক্ষা করছেন এবং স্যালাইনও চলছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

ছেলেকে সুস্থ দেখতে চান মা

ইকবালের মায়ের একটাই চাওয়া—ছেলের শারীরিক অবস্থার খবর যেন তাঁকে নিয়মিত জানানো হয়। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছেন। তাঁর আশা, দীর্ঘদিনের কষ্ট কাটিয়ে একদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে তাঁর ছেলে।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ১৬ বছরের ইকবালকে এলাকার মানুষ ‘জলমানব’ নামে চেনেন। দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই জলে ভেসে থাকতেন তিনি। বর্তমানে মুম্বইয়ের স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরিবারের দাবি, অনন্ত আম্বানির নির্দেশেই তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a comment