Special Squad: অপরাধ দমনে এবার আরও তৎপর পুলিশ। বড় গাড়ি নিয়ে যেখানে পৌঁছনো কঠিন, সেই সব সরু গলি কিংবা গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তাতেও এবার পুলিশের নজরদারি পৌঁছে যাবে অনায়াসে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার উদ্যোগে শুরু হয়েছে অভিনব ‘প্রহরী’ প্রকল্প। সাইকেলে চেপে বিশেষ পুলিশকর্মীরা নিয়মিত টহল দেবেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। পুলিশের এই নতুন ব্যবস্থা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এগরায় পুলিশের নতুন ‘প্রহরী’ স্কোয়াড
এগরা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত পেট্রোলিংয়ের ক্ষেত্রে বড় গাড়ির চলাচলের উপযোগী রাস্তা প্রয়োজন হয়। ফলে অত্যন্ত সরু গলি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা কিংবা গ্রামের কাঁচা রাস্তায় দ্রুত পৌঁছনো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই সাইকেলকে টহলের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে ছোট রাস্তা দিয়েও পুলিশকর্মীরা দ্রুত যাতায়াত করতে পারবেন।
আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
এগরার এই বিশেষ সাইকেল পেট্রোলিং ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) তন্ময় মুখার্জি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এগরার SDPO সৌভিক পাত্র, এগরা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, পুলিশকর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা।প্রত্যন্ত এলাকাতেও পুলিশের উপস্থিতি আরও সক্রিয় করার এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
কোথায় থাকবে বিশেষ নজর?
এগরা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল জায়গাগুলিকে এই নজরদারির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বাণিজ্যিক কেন্দ্র
ব্যস্ত বাজার
আর্থিক প্রতিষ্ঠান
সোনা ও রূপার দোকান
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা
সরু গলি ও ছোট রাস্তা
সংলগ্ন গ্রামের পথ
সাইকেলে থাকা পুলিশকর্মীরা নিয়মিত টহল দেওয়ার পাশাপাশি কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন।
কমবে পুলিশের ‘রেসপন্স টাইম’?
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হতে পারে দ্রুত যাতায়াত। সরু রাস্তা বা যানজটপূর্ণ এলাকায় গাড়ি নিয়ে পৌঁছতে সময় লাগলেও সাইকেলে তুলনামূলক সহজে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্দেহজনক গতিবিধি কিংবা সাধারণ মানুষের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ পুলিশের রেসপন্স টাইম কমানোর লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কী বলছেন পুলিশ আধিকারিক?
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখার্জির বক্তব্য অনুযায়ী, বড় গাড়ি নিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ গলি বা গ্রামের মেঠো রাস্তায় দ্রুত পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। সেই ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা দূর করতেই ‘প্রহরী’ প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।তাঁর মতে, সাইকেল পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অংশ পর্যন্ত পুলিশের নজরদারি আরও সক্রিয় করা সম্ভব হবে।

অপরাধীদের উপরও পড়বে প্রভাব?
পুলিশের ধারণা, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত এবং দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি থাকলে অপরাধমূলক কাজের প্রবণতা কমাতে তা কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে বাজার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থার আশপাশে নিয়মিত টহল থাকায় সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাবোধও বাড়তে পারে।তবে প্রকল্পটির কার্যকারিতা কতটা হয়, তা আগামী দিনে নিয়মিত নজরদারি ও বাস্তব প্রয়োগের উপরই নির্ভর করবে।

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার উদ্যোগে শুরু হল বিশেষ সাইকেল পেট্রোলিং ব্যবস্থা ‘প্রহরী’। যানজটপূর্ণ সরু গলি কিংবা গ্রামের দুর্গম মেঠো রাস্তায় যেখানে চার চাকার পুলিশ গাড়ি সহজে পৌঁছতে পারে না, সেখানে সাইকেলে দ্রুত পৌঁছে যাবে বিশেষ পুলিশ স্কোয়াড। বাণিজ্যিক এলাকা, বাজার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সোনা-রূপার দোকানগুলিতে নজরদারি জোরদার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।







