একসময় তাঁর নিষ্পাপ হাসি এবং স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ফাল্গুনী পাঠকের জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া সেই অভিনেত্রীই পরে বলিউডে একাধিক সফল ছবির মুখ হন। সলমন খান, অভয় দেওল ও শাহিদ কাপুরের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন আয়েশা টাকিয়া। কিন্তু জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় বেছে নেন তিনি।
কিশোরী বয়সেই গ্ল্যামার দুনিয়ায় প্রবেশ
বলিউডে অভিনয় শুরু করার আগেই মডেলিংয়ের জগতে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন আয়েশা। কিশোরী বয়সে শাহিদ কাপুরের সঙ্গে একটি জনপ্রিয় কমপ্ল্যানের বিজ্ঞাপনেও তাঁকে দেখা যায়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বিনোদন দুনিয়ায় তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে।
১৫ বছর বয়সেই মিউজিক ভিডিওতে সাড়া ফেলেন
আয়েশার কেরিয়ারের অন্যতম বড় মোড় আসে মাত্র ১৫ বছর বয়সে। ফাল্গুনী পাঠকের ‘মেরি চুনারি উড় উড় যায়’ মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে রাতারাতি দর্শকদের নজরে চলে আসেন তিনি। তাঁর অভিনয় ও উপস্থিতি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে অল্প বয়সেই ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।এরপর কিথের সঙ্গে ‘শেক ইট ড্যাডি’ মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেন তিনি। এই কাজগুলিই তাঁর পরবর্তী অভিনয় জীবনের পথ আরও মসৃণ করে দেয়।
‘টারজান: দ্য ওয়ান্ডার কার’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক
২০০৪ সালে ‘টারজান: দ্য ওয়ান্ডার কার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন আয়েশা টাকিয়া। ছবিতে বৎসল শেঠের বিপরীতে অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি।ডেবিউ ছবির জন্যই ফিল্মফেয়ারের শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার পান আয়েশা। ফলে বলিউডে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।
সলমন, অভয় দেওলদের সঙ্গে কাজ করে তৈরি করেন আলাদা পরিচয়
কেরিয়ারের পরবর্তী সময়ে ‘সোচা না থা’, ‘ডোর’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন আয়েশা। তাঁর অভিনয়ের ধরন ও পর্দায় স্বাভাবিক উপস্থিতি দর্শকদের প্রশংসা পায়।এরপর সলমন খানের সঙ্গে ‘ওয়ান্টেড’ ছবিতে জুটি বাঁধেন তিনি। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় এবং আয়েশার জনপ্রিয়তাও আরও বাড়ে।
জনপ্রিয়তার সময়েই বিয়ে, বদলে গেল কেরিয়ার
আয়েশার ব্যক্তিগত জীবনেও তখন বড় পরিবর্তন আসে। ২০০৯ সালের ১ মার্চ রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ফারহান আজমিকে বিয়ে করেন তিনি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২২ বছর।‘ওয়ান্টেড’ মুক্তির আগেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। পরবর্তীতে সংসার ও ব্যক্তিগত জীবনের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় ধীরে ধীরে বলিউড থেকে দূরে সরে যান তিনি।
বিয়ের পর ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হন
অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর স্বামীর রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন আয়েশা। ব্যবসার নানা দিক বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের পারিবারিক জীবনেও মন দেন তিনি।তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। অর্থাৎ একসময় যে অভিনেত্রীকে নিয়মিত বড় পর্দায় দেখা যেত, তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু এখন অনেকটাই পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন।
শেষ পর্যন্ত কি পুরোপুরি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন?
বিয়ের পর দীর্ঘ বিরতি নিলেও আয়েশা একেবারে অভিনয় থেকে সরে যাননি। ২০১১ সালে নাগেশ কুকুনূরের ‘মোড়’ ছবিতে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা যায়। তবে আগের মতো নিয়মিতভাবে আর বড় পর্দায় ফেরেননি।ফলে ‘ওয়ান্টেড’-সহ একাধিক সফল ছবির পর যে জনপ্রিয়তা তিনি অর্জন করেছিলেন, সেই জায়গায় পরবর্তীতে আর নিয়মিতভাবে ফিরতে পারেননি অভিনেত্রী।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আয়েশা টাকিয়া। এরপর মডেলিং থেকে বলিউডে পা রেখে ‘টারজান: দ্য ওয়ান্ডার কার’, ‘ডোর’, ‘সোচা না থা’ এবং ‘ওয়ান্টেড’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে দূরে সরে যান এই অভিনেত্রী। এখন কেমন আছেন তিনি?








