Nana Patekar: এই চরিত্রটাই তাড়া করত ভয়! ‘মঞ্চে করলে ১৫-২৫ বারেই মরে যেতাম’, কেন এমন বলেছিলেন নানা পাটেকর?

Nana Patekar: ‘নটসম্রাট’-এর আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকর চরিত্র নিয়ে কেন ভয় পেতেন নানা পাটেকর? মঞ্চে অভিনয় করলে ‘১৫-২৫ বারেই মরে যেতাম’—কেন এমন বলেছিলেন অভিনেতা?

পর্দায় তাঁকে দেখে চরিত্রের গভীরে হারিয়ে যেতেন দর্শক। কিন্তু কিছু চরিত্র যে অভিনেতার নিজের কাছেও কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ নানা পাটেকর। ‘নটসম্রাট’-এর মতো আবেগঘন চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে একসময় এমন মন্তব্য করেছিলেন তিনি, যা আজ তাঁর মৃত্যুর পর আরও বেশি করে মনে পড়ছে।

‘নটসম্রাট’ করতে ভয় কেন পেতেন নানা?

নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ছবি ‘নটসম্রাট’। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকরের চরিত্রে। একজন প্রবীণ অভিনেতার জীবন, সম্পর্ক, একাকিত্ব এবং মানসিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল গল্প।চরিত্রটির আবেগ এতটাই তীব্র ছিল যে, সেটি মঞ্চে অভিনয় করার কথা ভাবতেই অস্বস্তি বোধ করতেন নানা পাটেকর। তাঁর মতে, এই ধরনের চরিত্র অভিনেতার উপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

‘১৫ থেকে ২৫ বারেই মরে যেতাম’—নানার সেই মন্তব্য

নানা এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, সিনেমার ক্ষেত্রে কোনও দৃশ্যের মাঝখানে ‘কাট’ বলা যায়। ফলে অভিনেতা কিছুক্ষণ থামতে পারেন, নিজেকে সামলে নিতে পারেন। কিন্তু থিয়েটারের মঞ্চে সেই সুযোগ থাকে না।একটানা দর্শকের সামনে চরিত্রের আবেগ বহন করে যেতে হয় অভিনেতাকে। তাই ‘নটসম্রাট’ মঞ্চে করতে হলে ১৫ থেকে ২৫ বার অভিনয়ের চেষ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যেতে পারে—এমনই আশঙ্কার কথা বলেছিলেন নানা।এই কারণেই প্রযোজকদের তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, সিনেমায় কাজ করতে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু এই নাটক মঞ্চে করতে চান না।

আগেও বহু বড় অভিনেতা করেছেন এই চরিত্র

‘নটসম্রাট’-এর মঞ্চাভিনয়ের ইতিহাসও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ডঃ শ্রীরাম লাগু, দত্ত ভট্ট এবং চন্দ্রকান্ত গোখলের মতো বর্ষীয়ান অভিনেতারা আগে এই নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন।

তাঁদের অভিনয়ের কথা উল্লেখ করেই নানা বোঝাতে চেয়েছিলেন, আপ্পাসাহেবের চরিত্রে অভিনয় কতটা গভীর মানসিক প্রস্তুতি দাবি করে।

বিক্রম গোখলের অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন নানা

নানা পাটেকর শুধু নিজের অভিনয় নিয়েই কথা বলেননি। একই অনুষ্ঠানে তাঁর প্রয়াত বন্ধু ও সহ-অভিনেতা বিক্রম গোখলের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছিলেন।এমনকী নিজের সঙ্গে তুলনা টেনে নানা বলেছিলেন, বিক্রমের অভিনয় তাঁর চেয়ে কয়েক গুণ ভালো ছিল। সহ-অভিনেতার প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধাও অভিনেতার বিনয়ী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল।

২০১৬-এর ছবি এখনও দর্শকের মনে

‘নটসম্রাট’-এ নানা পাটেকরের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন বিক্রম গোখলে, মেধা মাঞ্জরেকর, মৃন্ময়ী দেশপান্ডে এবং সুনীল বারভে। মুক্তির পর ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকর হিসেবে নানা পাটেকরের অভিনয় ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তাঁর সংলাপ, আবেগ এবং চরিত্রের যন্ত্রণা দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।

নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণের পর তাঁর অভিনয়জীবনের এক বিস্ময়কর অধ্যায় ফের আলোচনায়। ‘নটসম্রাট’-এর আপ্পাসাহেব বেলওয়ালকর চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। কিন্তু এই চরিত্রের মানসিক চাপ কতটা ভয়াবহ ছিল, তা নিজেই জানিয়েছিলেন নানা। মঞ্চে এই নাটক করার কথা উঠলেই কেন পিছিয়ে যেতেন অভিনেতা?

Leave a comment