বিচ্ছেদের পরও ঈশা দেওল ও ব্যবসায়ী ভারত তখতানি তাঁদের দুই কন্যার যৌথভাবে লালন-পালন করছেন এবং সহ-অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ঈশা দেওল প্রথমবারের মতো তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এবং জানান, বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবনে ভালোবাসা ও রোম্যান্সের অভাব অনুভূত হয়। তবে জীবনের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভালোবাসার প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট রয়েছে।
ঈশা দেওল ও ব্যবসায়ী ভারত তখতানি ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কের ইতি টানলেও দুই কন্যার লালন-পালনের দায়িত্ব যৌথভাবে পালনের অঙ্গীকার করেন তাঁরা। সাম্প্রতিক ওই পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।
আলাপচারিতায় ঈশা দেওল বলেন, তাঁর কাছে ভালোবাসা ও রোম্যান্স জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে তিনি এই অনুভূতিগুলোর অভাব অনুভব করেন। অভিনেত্রীর ভাষ্য, তিনি সবসময় রোম্যান্টিক গল্প, প্রেমের গান এবং রোম্যান্টিক চলচ্চিত্র পছন্দ করেন। তাঁর মতে, তিনি স্বভাবতই আবেগপ্রবণ ও রোম্যান্টিক মানুষ এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগগত সংযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতি একজন মানুষকে মানসিক ভারসাম্য ও ইতিবাচক শক্তি দেয়।
ঈশা দেওলকে প্রশ্ন করা হয়, বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তি এবং অতীতের সম্পর্কের উত্থান-পতনের পর ভালোবাসা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এমনটি একেবারেই নয়। তিনি জানান, জীবনে বিচ্ছেদ এবং সম্পর্কের সমাপ্তি স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হতে পারে। তাঁর কথায়, বিয়ের আগেও তাঁর সম্পর্ক ছিল এবং সেগুলোরও সমাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু এসব অভিজ্ঞতা কখনও ভালোবাসার প্রতি তাঁর বিশ্বাসকে দুর্বল করেনি।
![]()
ঈশা দেওলের মতে, প্রতিটি সম্পর্ক মানুষকে কিছু না কিছু শিক্ষা দেয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়। তাঁর বিশ্বাস, কঠিন অভিজ্ঞতার পরও ভালোবাসার অনুভূতি ইতিবাচক থাকা উচিত।
ঈশা দেওল তাঁর বাবা প্রবীণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্র এবং অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারে পারস্পরিক সম্মান, স্নেহ এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা দেখেছেন। সেই পরিবেশই সম্পর্ক ও ভালোবাসা সম্পর্কে তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। তাঁর মতে, সত্যিকারের সম্পর্ক বিশ্বাস, সম্মান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
অভিনেত্রী বলেন, বৈবাহিক জীবনের সমাপ্তি যে কারও জন্যই অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে যখন পরিবার ও সন্তান জড়িত থাকে। তিনি জানান, তাঁদের বিচ্ছেদের খবর কখনওই জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হোক, তা তিনি চাননি। তবে একজন জনপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি জানতেন যে এই খবরে মানুষ ও গণমাধ্যমের নজর থাকবে।
ঈশা দেওল বলেন, তিনি এবং ভারত তখতানি পুরো বিষয়টি মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে এর নেতিবাচক প্রভাব তাঁদের পরিবার ও সন্তানদের ওপর না পড়ে।
বিচ্ছেদের পরও ঈশা দেওল এবং ভারত তখতানি তাঁদের দুই কন্যার যৌথভাবে দেখাশোনা করছেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, অভিভাবক হিসেবে তাঁদের প্রথম দায়িত্ব সন্তানদের সুখী ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। তিনি ইঙ্গিত দেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কে পরিবর্তন এলেও সন্তানদের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার আগের মতোই রয়েছে।








