FICCI প্রি-বাজেট সমীক্ষায় বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে শিল্পমহলের প্রত্যাশা

FICCI-এর প্রি-বাজেট সমীক্ষায় শিল্পমহল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে কর্মসংস্থান, ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রতিরক্ষা, MSME ও রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭–৮ শতাংশের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।

FICCI-এর সাম্প্রতিক প্রি-বাজেট সমীক্ষায় শিল্পমহল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে কর্মসংস্থান, ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রতিরক্ষা, MSME এবং রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ শিল্পপতি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৫০ শতাংশ শিল্পপতির ধারণা, আগামী অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের মৌলিক অর্থনৈতিক শক্তি স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিতেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রায় ৪২ শতাংশ শিল্পপতি মনে করেন, সরকার FY26-এ জিডিপির ৪.৪ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। এটি সরকারের আর্থিক নীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার প্রতি শিল্পমহলের আস্থাকে প্রতিফলিত করে।

শিল্পমহলের প্রধান প্রত্যাশা মূলত তিনটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত। প্রথমত, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নীতিগত পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক জোর। তৃতীয়ত, রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করতে উন্নত সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান।

ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বিকাশে শিল্পপতিরা মূলধনী ব্যয় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ইলেকট্রনিক্স খাতে একটি বৃহৎ শিল্প ক্লাস্টার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে OEM, EMS এবং কম্পোনেন্ট সরবরাহকারীরা একই স্থানে কার্যক্রম চালাবে। এর ফলে ইলেকট্রনিক্স ইকোসিস্টেমের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্যাপিটাল বাজেট ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। UAV, কাউন্টার-UAV, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির জন্য পৃথক বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন PLI প্রকল্পের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা এবং ড্রোন গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিলের জন্য আরও ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে।

রপ্তানি খাতে শিল্পমহল জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, CBAM ও ডিফরেস্টেশন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি নীতি সরল ও বিশ্বাসযোগ্য করা, কাস্টমস ও বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লজিস্টিকস ও বন্দরে বিলম্ব কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া RoDTEP প্রকল্পে অতিরিক্ত তহবিল, SEZ নীতিতে সংস্কার এবং কাস্টমস ট্যারিফকে তিনটি মানক হারে রূপান্তরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ডাইরেক্ট ট্যাক্স ব্যবস্থায় শিল্পপতিরা তিনটি পরিবর্তনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন কর রিপোর্টিং আরও সহজ করা, করদাতাদের জন্য পূর্বানুমেয় ফল নিশ্চিত করা এবং কর সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কর্পোরেট পুনর্গঠন ও বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিষেবা সহজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

MSME খাতকে আরও শক্তিশালী করার দাবিও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। শিল্পমহলের মতে, বাজেটে এই খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন, কারণ MSME কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অবকাঠামো খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পমহলের ধারণা, সড়ক, রেল, বন্দর ও বিমান যোগাযোগে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়বে।

সমীক্ষায় শিল্পপতিরা পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রতিরক্ষা, MSME ও রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, এই খাতগুলো যথাযথ বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা পেলে ভারত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

Leave a comment