২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল অংশ নেবে, যা টুর্নামেন্টের কাঠামোকে আরও বড় ও দীর্ঘ করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচসংখ্যা এবং নকআউট পর্বে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া উভয়ই প্রভাবিত হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গ্রুপ পর্বে ম্যাচ বৃদ্ধির কারণে দর্শকদের আগ্রহে প্রভাব পড়তে পারে, তবে ফিফা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পক্ষে নয়।
বিবিসি স্পোর্টের ফুটবল প্রধান লেখক ফিল ম্যাকনালটির মতে, ফিফার এই সিদ্ধান্ত এখন কার্যত স্থায়ী বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং পুনরায় ৩২ দলের ফরম্যাটে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাঁর বক্তব্য, ফিফা একবার বড় টুর্নামেন্টের কাঠামো পরিবর্তন করলে তা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন খেলাটির বৈশ্বিক বিস্তারের জন্য ইতিবাচক হলেও এর ফলে “গ্রুপ স্টেজ ফ্যাটিগ” বা গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের সংখ্যা বাড়তে পারে।
কয়েকজন সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকের মতে, নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলিও এখন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ায় গ্রুপ পর্বে একতরফা ম্যাচের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে ফিফার যুক্তি, এর মাধ্যমে ফুটবলের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ ঘটবে এবং ছোট দেশগুলো বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পাবে।
গ্রুপ K-কে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রুপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
পর্তুগালকে এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এছাড়া ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ভিতিনহার মতো খেলোয়াড়ও দলে রয়েছেন।
অন্যদিকে, কলম্বিয়াকেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। লুইস দিয়াজ এবং হামেস রদ্রিগেস দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন। আফ্রিকার কঙ্গো ডিআর এবং অভিষেককারী উজবেকিস্তানের জন্য এই গ্রুপ পর্ব বড় অভিজ্ঞতা হতে পারে।
গ্রুপ L-এ ইংল্যান্ডকে শিরোপার শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে দলটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।

ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ক্রোয়েশিয়া, যারা গত দুই বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করেছে এবং ২০১৮ সালে ফাইনালে পৌঁছেছিল।
ক্রোয়েশিয়া দলকে এখন অপেক্ষাকৃত বয়স্ক দল হিসেবে দেখা হলেও লুকা মদরিচ এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ঘানা ও পানামাকেও এই গ্রুপে অঘটন ঘটানোর সক্ষমতাসম্পন্ন দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গ্রুপ I-এ ফ্রান্সকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বের এক নম্বর র্যাঙ্কিংধারী এই দল তাদের আক্রমণাত্মক ধরণ এবং শক্তিশালী স্কোয়াডের জন্য পরিচিত।
সেনেগাল ও নরওয়ে এই গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। নরওয়ের দলে আছেন এরলিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ড।
ইরাককে এই গ্রুপের ডার্ক হর্স হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছে ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করবে।
গ্রুপ J-এ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে আবারও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। লিওনেল মেসির পরও দলের পারফরম্যান্স স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া এই গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, জর্ডান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, ফলে গ্রুপটিতে অনিশ্চয়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিবিসির বিশেষজ্ঞরা নিজেদের পূর্বাভাসে ফ্রান্স ও স্পেনকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও পর্তুগালকেও শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
কিছু বিশেষজ্ঞ ৪৮ দলের ফরম্যাটের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে টুর্নামেন্টের মান প্রভাবিত হতে পারে এবং এটি মূলত বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য করা হয়েছে।
ফিফার নতুন ফরম্যাট উজবেকিস্তান ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তাদের ফুটবল উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এর ফলে টুর্নামেন্টের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং গ্রুপ পর্বে অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচের সংখ্যা বাড়তে পারে।








